গোয়ালঘরে লুকানো পেট্রল-অকটেনের অবৈধ মজুত, পাবনায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান
গবাদি পশু রাখার স্থানে ড্রাম ভর্তি পেট্রল ও অকটেন লুকিয়ে রেখেছিল একটি অসাধু চক্র। পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার চিনাখড়া বাজারে এই অভিনব জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিশেষ অভিযানে চিনাখড়া বাজারের ‘খান এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক সন্টু ইসলামের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় দেড় হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি মুনাফা লোটার পরিকল্পনা করেছিল এই অসাধু চক্র। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চিনাখড়া বাজারে অভিযানে নামে ভোক্তা অধিকারের একটি বিশেষ দল। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকান বন্ধ করে সন্টু ইসলাম গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
দোকানের পেছনের পথ দিয়ে আভিযানিক দল সন্টুর বাড়িতে প্রবেশ করে। সেখানে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল—গোয়ালঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ পেট্রল ও অকটেন। এই অবৈধ মজুতের দায়ে সন্টু ইসলামকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত তেলগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত তদারকির অংশ ছিল অভিযান
পাবনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি জানান, এটি তাদের নিয়মিত তদারকির অংশ ছিল। তিনি বলেন, “এদিন চিনাখড়া ও আতাইকুলাসহ চারটি বাজারের মোট ৬টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়েছে। অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি ও মজুতের দায়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
এই অভিযানটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সক্রিয় তদারকির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। জ্বালানি তেলের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে অসাধু ব্যবসায়ীদের কার্যকলাপ রোধে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে।



