জ্বালানি তেলের রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিচ্ছে সরকার, আগামীকাল থেকে বাতিল
দেশে জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে চালু থাকা রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিতে যাচ্ছে সরকার। ফলে সব ধরনের যানবাহনের জন্য তেল কেনায় আর কোনো নির্দিষ্ট সীমা বা বাধ্যবাধকতা থাকবে না। শনিবার (১৪ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী।
রেশনিং বাতিলের তারিখ ও প্রক্রিয়া
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, "আমরা আশা করছি আগামীকাল রোববার (১৫ মার্চ) থেকে জ্বালানি তেলে রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়া হবে।" এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গত ৬ মার্চ থেকে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের এই পদক্ষেপ জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা দূরীকরণ এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নেওয়া হয়েছে।
রেশনিং চালুর পটভূমি ও প্রাথমিক সীমা
এর আগে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলে গত ৬ মার্চ থেকে সারা দেশে যানবাহনের জন্য তেল বিক্রিতে রেশনিং চালু করে সরকার। রেশনিং শুরুর সময় সরকারের নির্দেশনায় নিম্নলিখিত সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল:
- মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২ লিটার
- স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার
- পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার
- দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কন্টেইনার ট্রাকের জন্য প্রতিদিন ২০০ থেকে ২২০ লিটার
রেশনিং ব্যবস্থার শিথিলকরণ
পরবর্তীতে এই ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল করা হয়। রাইডশেয়ারিং চালকদের কথা বিবেচনায় মোটরসাইকেলের তেলের সীমা ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়। একই সঙ্গে সামগ্রিক রেশনিং হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এই শিথিলকরণের ফলে যানবাহন মালিক ও চালকদের কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে, কিন্তু এখন সম্পূর্ণ বাতিলের মাধ্যমে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।
ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও প্রভাব
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়ার ফলে যানবাহন মালিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য তেল কেনার প্রক্রিয়া সহজতর হবে। তবে, সরকারকে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আবার এমন অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, "সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।" এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
