কুমিল্লার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ উদ্বোধন, জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে অগ্রগতি
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রে ৫ নম্বর কূপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে (১৪ মার্চ) মুরাদনগরের শ্রীকাইল মখলিসপুর এলাকায় এই কূপটি উদ্বোধন করেন বিদ্যুত ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস উত্তোলন ও জাতীয় গ্রিডে সংযোজন
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীডে প্রতিদিন যোগ হবে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস। এ নিয়ে কুমিল্লার মুরাদনগরের শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের মোট ৫টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এই উন্নয়ন দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য: স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদ্যুত ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে আমদানি নির্ভরতা দেশের জ্বালানি খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। বৈশ্বিক সংকটের সময়ে এই নির্ভরতার কারণে আমরা বারবার ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হচ্ছি। আমাদের সরকারের লক্ষ্য হলো নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন করে জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা। স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাবলম্বী হলে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক ঝুঁকি থেকে সহজেই উত্তরণ সম্ভব হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে বিগত সরকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-কে পঙ্গু করে রেখেছিল, যার নেতিবাচক ফলাফল বর্তমানে অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চাই এবং তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চাই। জ্বালানি খাতকে সরকার নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের গ্যাসের চাহিদা দাঁড়াবে সাড়ে চার হাজার ঘনফুটে। আমরা আমাদের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে এই চাহিদা পূরণ করার সক্ষমতা অর্জন করতে চাই।’
কূপের নির্মাণ ও গ্যাস মজুত
শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র কূপ-৫ এর উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল বাতিনের প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, এই কূপের খনন কাজ শুরু হয়েছিল গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর। খনন কাজ সম্পন্ন হয় এ বছরের জানুয়ারি মাসে। ১৪ মার্চ থেকে এই কূপ থেকে নিয়মিত গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই কূপে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে, যা দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইফুল ইসালম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক, পেট্রোবাংলার ডিরেক্টর অপারেশন্স রফিকুল ইসলাম, বাপেক্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফজলুল হক এবং প্রকল্প পরিচালক মোজাম্মেল হক। তাদের উপস্থিতি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
এই নতুন কূপের উদ্বোধন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
