সিলেটে জ্বালানি তেলের ফিলিং স্টেশনে ধর্মঘট: কর্মী হামলার প্রতিবাদে ৫ দফা দাবি
সিলেটে ফিলিং স্টেশনে ধর্মঘট, কর্মী হামলার প্রতিবাদ

সিলেটে জ্বালানি তেলের ফিলিং স্টেশনে ধর্মঘট: কর্মী হামলার প্রতিবাদে ৫ দফা দাবি

সিলেট বিভাগের ফিলিং স্টেশনগুলোয় সোমবার রাত থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটা পর্যন্ত ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেওয়ার মধ্যেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ধর্মঘটের কারণ ও দাবিসমূহ

গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট নগরের উত্তরা পেট্রোলিয়াম নামের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা এক ব্যক্তি পাম্পের এক কর্মীর ওপর হামলা চালান। এতে ওই কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হন, যা এই ধর্মঘটের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে কাজ করেছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াশদ আজিম ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ধর্মঘটের পেছনে মূলত তিনটি বিষয় জড়িত: কর্মী হামলার প্রতিবাদ, জ্বালানি তেল বিপণনের বর্তমান সংকট নিরসন, এবং পাম্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে, যা নিম্নরূপ:

  1. পেট্রোল পাম্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  2. হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
  3. বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) কর্তৃক আরোপিত অযৌক্তিক দৈনিক কোটাপদ্ধতি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
  4. স্বাভাবিক, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর জ্বালানি বিপণনব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে।
  5. সিলেট অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

ধর্মঘটের প্রভাব ও পরিস্থিতি

এই ধর্মঘটের ফলে সিলেটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, কারণ ধর্মঘট চলাকালীন ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, গতকাল সন্ধ্যায় হামলার ঘটনার পর তারা বৈঠকে বসেন এবং প্রতিবাদস্বরূপ এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেন।

জ্বালানি তেলের দৈনিক কোটাপদ্ধতি ইতিমধ্যেই বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে, এবং এই ধর্মঘট সেই সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে। সিলেট সদর ও আশেপাশের এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় যানবাহন ও শিল্পকারখানায় জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

ধর্মঘট শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কতটা সময় লাগবে, তা এখনও অনিশ্চিত। সংগঠনের নেতারা তাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আরও কর্মসূচির ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এখনও কোনো সমাধান হয়নি।