ডিএসসিসির জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। আজ সোমবার ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংস্থার প্রশাসক আবদুস সালামের নির্দেশে ব্যয় সংকোচন ও সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দে কাটছাঁট
নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত যানবাহনের ক্ষেত্রে জ্বালানি বরাদ্দ ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজে গাড়ির ব্যবহার সীমিত রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ডিএসসিসি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- দিনের বেলা পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করা
- জানালা ও দরজা খুলে প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা
- অফিসে বিদ্যমান বৈদ্যুতিক বাতির অর্ধেক ব্যবহার নিশ্চিত করা
- অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখা
এছাড়া, অফিস চলার সময় ফ্যান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন ছাড়া চালানো যাবে না। এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অফিস ত্যাগের সময় সতর্কতা
আদেশে আরও বলা হয়েছে, অফিসকক্ষ ত্যাগ করার সময় বাতি, ফ্যান ও এসি বন্ধ রাখতে হবে। করিডর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালানো যাবে না। অফিসের সময় শেষ হওয়ার পর কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানারসহ সব ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।
কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ
ডিএসসিসির সব বিভাগ ও আঞ্চলিক অফিসকে এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্থার সচিব মোহাম্মদ নাছিম আহমেদের সই করা দপ্তর আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



