জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের ভোগান্তি
জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ স্পিডবোট বন্ধ

জ্বালানি তেলের সংকটে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার সকাল থেকে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে কোনো স্পিডবোট চলাচল করছে না, যা এই রুটের দ্রুত যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই একই রুটে কাঠের বোট বা ট্রলার, ফেরি এবং বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ এমভি মালঞ্চের চলাচল স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহে বাধার কারণ

বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জগলুল হোসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে জ্বালানি তেলের অভাবে স্পিডবোট চালানো বর্তমানে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড থেকে নিয়মিত তেল সরবরাহ না পাওয়ায় এই বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার লিটার অকটেন তেলের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত মেঘনা অয়েল কোম্পানি থেকেই সংগ্রহ করা হয়।

জগলুল হোসেন আরও উল্লেখ করেন, গত রোববার তাদের প্রতিষ্ঠান নয় হাজার লিটার অকটেনের জন্য পে-অর্ডার করলেও মেঘনা কর্তৃপক্ষ তা ফেরত দিয়েছে। কবে নাগাদ তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেনি, যা অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেঘনা অয়েলের ব্যাখ্যা ও যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান আশ্বস্ত করেছেন যে তেলের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তিনি জানান, ইতিমধ্যে তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, যা শীঘ্রই সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে। তবে সন্দ্বীপ রুটে যাত্রীদের কাছে স্পিডবোট দ্রুত ও জরুরি যাতায়াতের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গুপ্তছড়া ঘাটের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেছে, এই রুটের প্রায় ৯০ শতাংশ যাত্রী নিয়মিত স্পিডবোটে যাতায়াত করেন। হঠাৎ করে স্পিডবোট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রী মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সন্দ্বীপের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির (৪৮) তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন, সকাল ১০টার দিকে ঘাটে এসে স্পিডবোট না পেয়ে তাকে নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। তার জরুরি কাজে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে একই দিনে সন্দ্বীপে ফেরার পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

হুমায়ুন কবির উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "তেলের অভাবে যদি ভবিষ্যতে ট্রলার বা স্টিমারও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দ্বীপবাসীদের চলাচল আরও কঠিন ও দুঃসহ হয়ে পড়বে।" এদিকে, এই রুটে চলাচলকারী ফেরি কপোতাক্ষের চালক সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা এখনো কোনো নতুন নির্দেশনা পাননি।