জ্বালানি তেলের অভাবে সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ
চট্টগ্রাম বিভাগের সন্দ্বীপ উপজেলার গুপ্তছড়া ঘাট থেকে চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে নৌ যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম স্পিডবোট। তবে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে আজ সোমবার সকাল থেকে এই রুটে স্পিডবোটের চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জগলুল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, তেলের অভাবে স্পিডবোট চালানো সম্ভব হচ্ছে না এবং এই বন্ধ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী হতে পারে।
যাত্রীদের মারাত্মক ভোগান্তি ও বিকল্পের অভাব
এই রুটে যাতায়াতকারী প্রায় ৯০ শতাংশ যাত্রী স্পিডবোটের উপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে চলাচল বন্ধ হওয়ায় তারা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। হুমায়ুন কবির নামের এক যাত্রী জানান, তিনি সকাল ১০টায় ঘাটে গিয়ে স্পিডবোট না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন। তাঁর জরুরি কাজ ছিল, কিন্তু স্পিডবোট ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘তেলের অভাবে যদি আগামী দিনে ট্রলার, স্টিমারও বন্ধ হয়ে যায়, তখন আমাদের কী হবে।’
তেল সরবরাহে সংকট ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
জগলুল হোসেনের মতে, দৈনিক প্রায় তিন হাজার লিটার অকটেন তেলের প্রয়োজন হয়, যা তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড থেকে ক্রয় করে। গতকাল রোববার তারা ৯ হাজার লিটার তেলের জন্য পে-অর্ডার করলেও মেঘনা কোম্পানি তা ফিরিয়ে দিয়েছে। মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে, তেলের সংকট থাকবে না এবং তাদের তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করেছে।
অন্যান্য নৌযানের চলাচল স্বাভাবিক
স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকলেও এই রুটে অন্যান্য নৌযানের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কাঠের বোট (ট্রলার), ফেরি এবং বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ এমভি মালঞ্চ নিয়মিতভাবে যাত্রী পরিবহন করছে। ফেরি কপোতাক্ষের চালক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফেরি চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি এবং তারা ভিন্ন কোনো নির্দেশনা পাননি।
সম্ভাব্য সমাধান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
এই সংকটের সমাধানে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাত্রী ও স্পিডবোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। যদি তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও ব্যাপক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা সন্দ্বীপের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে।



