জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও বিশৃঙ্খলা
রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন মোটরসাইকেলচালকরা। বীর উত্তম জিয়াউর রহমান সড়ক, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়, আসাদ গেটসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এই সংকটের প্রভাবে অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
রেশনিং ও সীমিত সরবরাহ
জ্বালানি তেলের সরবরাহ সীমিত হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। মোটরসাইকেলচালকরা সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পারছেন, যা তাদের দৈনন্দিন যাত্রার জন্য অপ্রতুল বলে মনে করছেন অনেকে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকার পূর্বাচল ট্রেডার্সের মতো কিছু স্টেশনে 'তেল নেই' লেখা নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সংকটের গভীরতা নির্দেশ করছে।
ফিলিং স্টেশন বন্ধ ও ভিড় বৃদ্ধি
তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়, পশ্চিম কাফরুলের রোকেয়া সরণির সোবহান ফিলিং স্টেশন এবং তালতলা এলাকার হাসান ফিলিং স্টেশনসহ অনেক স্থাপনা বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সক্রিয় স্টেশনগুলোতে ভিড় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর লাইনের সিরিয়াল মানা নিয়ে চালকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হওয়ার ঘটনাও ঘটছে, যা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
পরিবারসহ অপেক্ষা ও সামাজিক প্রভাব
জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু চালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে দেখা গেছে, একজন অভিভাবক তার ছোট্ট শিশুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বসে দীর্ঘ সময় ধরে তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। এই দৃশ্য সংকটের মানবিক দিকটি উন্মোচন করে, যা দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিলিং স্টেশন কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারা ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও সংকটের স্থায়িত্ব বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সারি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ফুটিয়ে তুলছে।
