ঝাড়গ্রামে রাস্তার দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামে একটি রাস্তার পাশের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯ এপ্রিল রোববার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে জনসভা শেষে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় যাওয়ার পথে কলেজ মোড়ে গাড়ি থামিয়ে দোকানে ঢুকে পড়েন।
দোকানদারের হতবাক করা অভিজ্ঞতা
দোকানদার বিক্রম কুমার সাউয়ের কাছে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। মোদি সরাসরি দোকানে ঢুকে ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য অর্ডার দিলে দোকানদার ১০ টাকার ঝালমুড়ি বানিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেন। ঝালমুড়ি বানানোর সময় দোকানদার মোদিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি পেঁয়াজ খান কি না, যার জবাবে মোদি হ্যাঁ বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী দোকানদারের বাড়িঘর ও বাবা-মায়ের খোঁজও নিয়েছিলেন।
ঝালমুড়ি খাওয়ার পর মোদি ১০ টাকার নোট দিতে চাইলে দোকানদার প্রথমে নিতে চাননি, কিন্তু পরে প্রধানমন্ত্রী জোর করে তাঁর হাতে টাকাটি তুলে দেন। ঘটনার আগে প্রধানমন্ত্রীর এক নিরাপত্তাকর্মী কালো পোশাকে এসে জানিয়েছিলেন যে মোদি ঝালমুড়ি খাবেন, যা দোকানদারকে কিছুটা বিভ্রান্ত করেছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ ও বিজেপির পাল্টা জবাব
এই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে নির্বাচনী নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন। সোমবার বীরভূমের মুরারইতে এক জনসভায় তিনি বলেন, “১০ টাকা কখনো পকেটে থাকে ওর? কত নাটক! নির্বাচনের সময় গুহাতে গিয়ে বসেও থাকেন। কখনো নির্বাচনের সময় বলেন, ‘আমি চা-ওয়ালা।’ এরপরই দাবি করেন, ১০ টাকা বের করে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। সেটাও নিজেদের তৈরি। নয়তো দোকানে কীভাবে ক্যামেরা ফিট করা ছিল?”
মমতা আরও অভিযোগ করেন, ঝালমুড়িটি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা দলের সদস্যদের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এর পাল্টা জবাবে বলেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও যখন ঝাড়গ্রামের দোকানে ঢুকে চপ ভাজেন, তখন কি সেটা পূর্বপরিকল্পিত নাটক নয়?
নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ঘটনার তাৎপর্য
এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণায় একটি বিতর্কিত মোড় নিয়েছে। মোদি ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে চারটি জনসভা করেছিলেন, যেখানে তাঁর ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
- মোদির এই কাজকে সমর্থকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
- অন্যদিকে, বিরোধীরা এটিকে ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল বলে উল্লেখ করছেন।
ঘটনাটি রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।



