লক্ষ্মীপুর-১ এমপির তীব্র অভিযোগ: ঐকমত্য কমিশন ছিল নির্বাচন বিলম্বের কৌশল
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন (সেলিম) জাতীয় সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, এই কমিশনের কোনও আইনগত ভিত্তি ছিল না এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা।
সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশগ্রহণ
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি স্পিকারের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা এবং ক্রীড়াঙ্গনে তার অসামান্য সাফল্যের জন্য প্রশংসা জানান। একইসঙ্গে, তিনি পাঠ্যপুস্তকে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং নিজ নির্বাচনি এলাকার জনগণকে তাকে নির্বাচিত করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা
মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ঐকমত্য কমিশনের কিছু প্রস্তাব ছিল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন যে, কমিশনের বৈঠকে ভোটার ও প্রার্থীদের বয়স পরিবর্তন এবং সংসদের মেয়াদ চার বছর করার মতো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা মূলত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল হিসেবে কাজ করেছিল। তিনি এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আহমদকে উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি পরিস্থিতি বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ
তিনি আরও তীব্র অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতির একক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবকে তিনি নির্বাহী বিভাগকে অকার্যকর করার একটি সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তিকে ‘অসম’ আখ্যা
চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে কমিশন নিয়ে ব্যস্ত রাখার সময় বন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিদেশিদের কাছে হস্তান্তরের চুক্তি করেছে। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের জন্য ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বিনিময়ে ৫১ একর জমি ৪৮ বছরের জন্য লিজ দেওয়াকে তিনি ‘অসম চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, দেশীয় উদ্যোক্তারাই এই বিনিয়োগ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম ছিলেন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজন ছিল না।
নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ
নিজ নির্বাচনি এলাকা লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরে সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা এখনও গড়ে উঠেনি। তিনি উন্নত সড়ক, স্থানীয় হাসপাতালের দ্রুত উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সরকারের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুতি
শেষে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যুতে যেকোনও ধরনের বিতর্কে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তার এই বক্তব্য সংসদে একটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



