সংসদ অধিবেশনে এমপির খাওয়া, স্পিকারের তিরস্কার: শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন
সংসদে এমপির খাওয়া, স্পিকারের তিরস্কার

সংসদ অধিবেশনে এমপির খাওয়া, স্পিকারের তিরস্কার: শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মূল অধিবেশন কক্ষে বসে খাওয়ার কোনো অনুমতি নেই, এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত রীতি। অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা বজায় রাখার জন্য সেখানে খাওয়া-দাওয়া, চা-পান বা অন্য কোনো ভোজনমূলক কাজ করা সাধারণত দেখা যায় না।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংসদ অধিবেশন চলাকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার চেয়ারে বসে লক্ষ্য করেন যে, এক সংসদ সদস্য কিছু খাচ্ছেন। দূর থেকে দেখেই স্পিকার মাইকের মাধ্যমে সেই সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ না করেই জিজ্ঞেস করেন, তিনি কী খাচ্ছেন। তিনি চা পান করছেন কিনা, তাও জানতে চান। জবাবে সংসদ সদস্য জানান যে তিনি গরম পানি পান করছেন।

প্রতিউত্তরে স্পিকার ক্ষুব্ধ স্বরে বলেন, ‘পরে আরও কী খাবেন, গড নোজ’। এই মন্তব্যে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে, টিভি ক্যামেরা সেদিকে না ধরায় সেই সংসদ সদস্যের তাৎক্ষণিক পরিচয় জানা যায়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংসদের বিধি ও রীতি

সংসদের রুলস অফ প্রসিডিউর বা কার্যপ্রণালী বিধিতে অধিবেশন কক্ষে বসে না খাওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা নেই। তবে, ৩১১ নম্বর বিধি অনুযায়ী, সংসদ কক্ষটি সংসদের বৈঠক ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। যেহেতু খাওয়া-দাওয়া সংসদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের কোনো অংশ নয়, তাই অধিবেশন কক্ষে বসে খাওয়া এই বিধির পরিপন্থি বলে বিবেচিত হয়।

এমন রেওয়াজ সাধারণত সংসদে দেখা যায় না। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে আলাদা ক্যাফেটেরিয়া ও ডাইনিং সুবিধা রয়েছে, যেখানে সংসদ সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনুমোদিত ব্যক্তিরা খাবার খেতে পারেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া ও তাৎপর্য

এই ঘটনাটি সংসদীয় শৃঙ্খলা ও মর্যাদা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। স্পিকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ সংসদীয় কার্যক্রমে নিয়ম কানুনের গুরুত্বকে তুলে ধরে। এটি সদস্যদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা এড়ানো যায়।

সংসদে এমন ঘটনা বিরল হলেও, এটি জনগণের মধ্যে সংসদীয় আচরণ নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংসদ সদস্যদের উচিত অধিবেশন কক্ষের পবিত্রতা ও আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করা।