মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও আমেরিকার চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে, যেখানে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে এবং সংকটের মাত্রা তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বিভিন্ন জ্বালানি তেলের কতদিনের মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসির চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও মজুতের বিস্তারিত তথ্য
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান আজ মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারস্থ বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় জ্বালানি মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। বিপিসির প্রেরিত তথ্যেও একই বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন জ্বালানি তেলের মজুত নিম্নরূপ:
- ডিজেল: ১৪ দিনের মজুত আছে
- অকটেন: ১৭ দিনের মজুত আছে
- পেট্রোল: ৯ দিনের মজুত আছে
- ফার্নেস ওয়েল: ৩৫ দিনের মজুত আছে
- জেট ফুয়েল: ২১ দিনের মজুত আছে
- কেরোসিন: ২০০ দিনের মজুত আছে
- মেরিন ফুয়েল: ৪২ দিনের মজুত আছে
বাংলাদেশের জ্বালানি মজুতের সাধারণ অবস্থা ও সরকারের প্রস্তুতি
বাংলাদেশে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের, যেমন ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, এবং জেট ফুয়েলের জন্য ১৫ থেকে ৬০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মজুদ বিপিসির গুদামগুলোতে সংরক্ষিত থাকে। এই মজুত পরিস্থিতি অনুযায়ী কমতে বা বাড়তে পারে, যা বাজার ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির উপর নির্ভরশীল। এছাড়া, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার বা আমদানি অব্যাহত রাখতে সরকার সবসময় প্রস্তুত থাকে বলে জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পটভূমি ও প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। এ ছাড়া, সবমিলিয়ে ইরানে নিহতের সংখ্যা সাড়ে ৫০০–এর বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। খামেনি হত্যার প্রতিবাদে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
এই সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিপিসির প্রদত্ত তথ্য বাংলাদেশের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা দিচ্ছে, তবে চলমান বৈশ্বিক ঘটনাবলি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।



