বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল আমদানি সম্পন্ন
বাংলাদেশ-ভারত পাইপলাইনে ৭ হাজার টন ডিজেল আমদানি

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও সাত হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সফলভাবে আমদানি করা হয়েছে। ভারতের আসাম রাজ্যে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে এই জ্বালানি তেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম।

চলতি মাসে আমদানির পরিসংখ্যান

এখন পর্যন্ত চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট তিনটি চালানে বিশ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল আট হাজার টন, ১৯ এপ্রিল পাঁচ হাজার টন এবং ২৩ এপ্রিল সাত হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। আগামী ২৬-২৭ মার্চ আরও পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে, যা এপ্রিল মাসের চতুর্থ চালান হিসেবে গণ্য হবে।

বছরব্যাপী আমদানি পরিকল্পনা

চলতি ২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত পাইপলাইনটির মাধ্যমে মোট ৪২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। এর আগে মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে ২২ হাজার টন জ্বালানি তেল এসেছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাইপলাইন প্রকল্পের পটভূমি ও কার্যক্রম

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সারাবছর নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় ১৩১.৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূ-গর্ভস্থ বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম চালু হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে, ভারত আগামী ১৫ বছর ধরে ডিজেল সরবরাহ করবে। প্রাথমিকভাবে বছরে দুই থেকে তিন লাখ টন জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে ব্যবহার, খরচ ও চাহিদা অনুযায়ী এই পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানানো হয়েছে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানি করা সম্ভব।

ডিজেল বিতরণ প্রক্রিয়া

নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল প্রথমে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে অবস্থিত রিসিপ্ট টার্মিনালে পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে রেলওয়ের মাধ্যমে এই তেল পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামক তিনটি তেল বিপণন কোম্পানিতে সরবরাহ করা হয়। সোমবার রাত সাড়ে আটটা থেকে শুরু হওয়া পাম্পিং কার্যক্রমের মাধ্যমেই সর্বশেষ চালানটি সম্পন্ন হয়েছে।

এই পাইপলাইন প্রকল্পটি কেবল জ্বালানি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতেও ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।