বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮.২% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা আগের অর্থবছরের ৭.১% থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্বব্যাংকের最新 প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্প ও সেবা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ। শিল্প খাত ১০.২% এবং সেবা খাত ৭.৮% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কৃষি খাতও ৪.৫% প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল-হাসান বলেন, 'বাংলাদেশের অর্থনীতি চমৎকার স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী থাকায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।'
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগ ৯.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করছে। সরকারি বিনিয়োগও ৭.২% বেড়েছে। তবে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ উল্লেখ করা হয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড়ে ৬.৮% ছিল, যা আগের বছরের ৫.৬% থেকে বেশি। খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৭.২% এবং অ-খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৬.৪% ছিল।
দারিদ্র্য হ্রাস
প্রবৃদ্ধির ফলে দারিদ্র্য হার কমেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিদ্র্যের হার ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০.৫% থেকে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৮.৭% হয়েছে। চরম দারিদ্র্য ৮.১% থেকে কমে ৭.৩% হয়েছে।
তবে আয় বৈষম্য কিছুটা বেড়েছে। জিনি সহগ ০.৪৮২ থেকে বেড়ে ০.৪৯১ হয়েছে, যা সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৫% থেকে ৮.০% এর মধ্যে অনুমান করা হয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংস্কারের অগ্রগতি এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, 'আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং দারিদ্র্য আরও কমাতে কাজ করে যাচ্ছি। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে।'



