ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কর্তৃক সরকারে রদবদল এবং বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তার এই সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিবৃতি
রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো লিখেছেন, 'সরকার পরিচালনার সম্মান পাওয়ায় আমি অত্যন্ত গর্বিত। পুরো সরকারি দলকে তাদের কাজের জন্য জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।'
জেলেনস্কির নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা
এর আগে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান যে, ইউক্রেনের জন্য এখন একটি নতুন ও পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভা প্রয়োজন। এই রদবদলের বিষয়ে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, 'আমরা একমত হয়েছি যে পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রিপরিষদের নবায়ন জরুরি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং ইউক্রেন দলের অংশ হয়ে বছরের পর বছর ফলপ্রসূ কাজ করার জন্য আমি ইউলিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। একই সঙ্গে তাকে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছি।'
স্ভিরিদেনকোর সংক্ষিপ্ত মেয়াদ ও ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী
ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো এক বছরেরও কম সময় ধরে এই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই তিনি ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তিনি দেনিস শ্মিহালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন, যিনি বর্তমানে সরকারের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। স্ভিরিদেনকোর পদত্যাগের পর ইউক্রেনের পার্লামেন্ট নতুন সরকারের রূপরেখা অনুমোদন না করা পর্যন্ত দেনিস শ্মিহালই ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলেনস্কির জরুরি কাজের তালিকা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া অপর এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি ইউক্রেনের সামনে থাকা বেশ কয়েকটি জরুরি কাজের তালিকা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং দেশের সীমান্ত এলাকাগুলো আরও শক্তিশালী করা। তিনি আরও জানান যে, পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন খাত পরিচালনার জন্য তিনি ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিদের নতুন দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা না দিয়েই জেলেনস্কি বলেন, 'আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এই পরিবর্তনগুলোর জন্য মন্ত্রিপরিষদের পুনর্গঠন আবশ্যক।'
পার্লামেন্টের ভূমিকা ও যুদ্ধকালীন ঐক্য
ইউক্রেনের নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার যেকোনও রদবদলে পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির আইনপ্রণেতারা মূলত প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সিদ্ধান্তের পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছেন এবং সাধারণত তার কোনও এজেন্ডা বা পরিকল্পনায় বাধা দেন না।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড



