এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের জুলাই সংস্করণে পূর্বাভাস দিয়েছে যে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির চিত্র
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসের ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে কিছুটা কম। তবে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের উপরে রয়েছে। এডিবির মতে, পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনা
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাকিস্তানের গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, আফগানিস্তানের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, নেপালের ৫ শতাংশ, এবং ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপের ৪ শতাংশ হবে। ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি ৭৩ শতাংশ ও পাকিস্তানের ৫১ শতাংশে পৌঁছালেও পরবর্তীতে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণ
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকবে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির দ্বিতীয় দফার প্রভাব, বিনিময় হার সমন্বয়ের প্রভাব এবং খাদ্য ও সেবা খাতে অব্যাহত মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর করবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সীমিত করছে। দুর্বল রপ্তানি ও আমদানির মাঝারি প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক চাহিদার দুর্বলতা ও বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির প্রভাব
মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে, ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। চালের দামও বেড়েছে। গত জুনে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হলেও জাতীয় গড় মজুরি হার বেড়েছে মাত্র ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হয়েছে। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় মানুষকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে বা বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
অর্থনীতির অন্যান্য দিক
এডিবি বলছে, সরবরাহের দিক থেকে রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত উচ্চ জ্বালানি মূল্য, বৈদেশিক বাজারে দুর্বল চাহিদা ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে চাপে থাকবে। সারের ঘাটতির কারণে কৃষি খাত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে রেমিট্যান্সনির্ভর পারিবারিক আয়ের কারণে সেবা খাত প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা সহায়তা করবে।



