চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: নৌ-পরিবহনমন্ত্রী
চট্টগ্রাম বন্দরকে কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে পুরোপুরি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত একটি প্রশ্নের জবাবে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
টার্মিনাল পরিচালনায় অপারেটর নিয়োগের নীতি
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত বা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যেই অপারেটর নিয়োগ করা হয়ে থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বন্দরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা হস্তান্তরের কোনো উদ্যোগ বর্তমানে নেই।
বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি
মন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি ও বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিদেশি অপারেটরদের বর্তমান ভূমিকা
তিনি উদাহরণস্বরূপ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)-এ বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। এছাড়া, কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কস্থ মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভি-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সরকার বন্দরের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বিদেশি অংশীদারিত্ব গ্রহণ করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



