নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। একই সঙ্গে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সংসদে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা
রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (প্রথম বাজেট) অধিবেশনের ২৩তম দিনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদের সামনে সরকারের এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
তহবিলের আকার বৃদ্ধি
অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) খাতের নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আকার ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে। তিনি জানান, এ তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
স্টার্টআপ তহবিল
স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের পাশাপাশি স্টার্টআপগুলোতে ইক্যুইটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
ইক্যুইটি বিনিয়োগের সুযোগ
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দেশের ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিত্বে 'বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, পিএলসি' গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলো সরাসরি ইক্যুইটি সহায়তা বা মূলধনী বিনিয়োগ গ্রহণ করতে পারবে।
কর্মসংস্থান তহবিল
বেকারদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকারদের স্বল্প সুদে ঋণ দিতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল পরিচালিত হচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই তহবিলটি ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার আরও একটি বড় তহবিল গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।



