বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সভায় দলের ইশতাহার বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদারেরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে, শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এতে মালয়েশিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
সরকারের প্রকল্প অগ্রগতি ও ইশতাহার বাস্তবায়ন
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জন্য ভাতা প্রদানের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থায়ী কমিটি। সভায় বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের প্রশংসা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
বিরোধী দলের জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গ
সভায় বিরোধী দলগুলোর জুলাই সনদ ও গণভোট বিষয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে জনগণের কাছে বিএনপির অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে দলীয় প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ইউনিটগুলোকে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে সভা থেকে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় কার্যকরী কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মহাসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের নির্বাচন ও প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর
সভায় ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলও পর্যালোচনা করা হয়। নির্বাচনের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারত্ব জোরদারে এসব সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সফর সফল হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও পররাষ্ট্র সাফল্য
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে, যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। সভা মনে করে, এই যুদ্ধের কারণে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশ সমূহের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই বিজয় বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
মাদক সমস্যা ও সাংগঠনিক নির্দেশনা
একইসঙ্গে দেশে মাদক সমস্যার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে দলীয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিএনপির সব ইউনিটকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



