ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: বাবার আত্মহত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার
ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. ফরহাদ ওরফে কোম্পানীকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১২ জুলাই) তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ

গত ৫ জুলাই বালিয়াডাঙ্গী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি দায়ের হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে অষ্টম শ্রেণির ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন প্রধান আসামি। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ২৫ জুন সহযোগীদের নিয়ে তাকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিভিন্ন কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া এবং ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের প্রতিবাদ ও হুমকি

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার পর কিশোরী বাড়ি ফিরে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানালে আসামিরা জাল কাবিননামা তৈরির দাবি করে এবং মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়। এর কয়েক দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা আবুল কাসেমের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাবার আত্মহত্যা

এজাহারে দাবি করা হয়েছে, অপহরণ, ধর্ষণ, হামলা ও ধারাবাহিক হুমকির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গত ৫ জুলাই আবুল কাসেম আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও আনা হয়েছে।

গ্রেফতার ও তদন্ত

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান বাজার এলাকা থেকে র্যাব-১৩-এর সহযোগিতায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বালিয়াডাঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। এ অবস্থায় আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়েছে।