অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য: কাস্টমসে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, চেম্বারের চিঠি
অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য: কাস্টমসে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক। কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, সদিচ্ছার অভাব ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে দেশীয় ব্যবসায়ীদের কাঁধে কাস্টমস ও বন্দরের বিশাল জরিমানার বোঝা চাপছে এবং ব্যবসা পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব অভিযোগ জানান চেম্বার সভাপতি। রোববার এই চিঠি পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে বলা হয়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পণ্য খালাস ব্যবস্থা জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তোলা ব্যবসা সহজীকরণের পথে বড় বাধা। সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতা, কাস্টমস ও বন্দর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ৪ দিনের মধ্যে পণ্যের শুল্কায়ন ও বন্দর থেকে খালাসের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও অবহেলা

অর্থমন্ত্রী বন্দরের অচল স্ক্যানার মেশিন সচল করাসহ জাহাজ ও পণ্যজট হ্রাসের নির্দেশনা দিলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্য শুল্কায়নে অসহযোগিতা করছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এখনো বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক একই পণ্যের বারংবার পরীক্ষা, কনটেইনার স্ক্যানিংয়ের পর গোপন সংবাদের দোহাই দিয়ে পুনরায় কায়িক পরীক্ষা, স্থানীয় রাসায়নিক পরীক্ষার সীমাবদ্ধতার অজুহাতে ল্যাব টেস্টের নামে ঢাকায় প্রেরণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ই-সিও’ দেওয়া সত্ত্বেও ‘সিও’ বন্ড সিগনেটরির সিগনেচার যাচাই করে দিনের পর দিন বিলম্ব করা হচ্ছে। কনটেইনার আনস্টাফিংয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেকিং ও বিএসটিআই টেস্টের জন্য পণ্য প্রেরণসহ অকারণ জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে একটি পণ্য চালান খালাসে ৪ দিনের পরিবর্তে ৭-৮ দিন বা তারও বেশি সময় লাগছে।

পণ্য নষ্ট ও আর্থিক ক্ষতি

একই পণ্যের বারংবার কায়িক পরীক্ষার ফলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পণ্য আনস্টাফিং করা হচ্ছে, যাতে বিপুল পণ্য নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পণ্য বাজারে চালানোর মতো অবস্থায় থাকে না, যার আর্থিক লোকসান আমদানিকারককে বহন করতে হচ্ছে।

চেম্বার সভাপতি বলেন, আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদ্যমান বিধি না মেনে লোডিং দিয়ে শুল্কায়ন করা হচ্ছে, যা খালাস ব্যবস্থাকে আরও জটিল করছে। খালাস বিলম্বে অতিরিক্ত সময়ের মাশুল, টেস্ট ও ডকুমেন্টের খরচ পণ্যমূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় ও পণ্যমূল্য উভয়ই বাড়াচ্ছে।

আইন থাকলেও বাস্তবায়ন নেই

চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাস্টমস আইন, ২০২৩ ঘোষিত হলেও পেপারলেস কাস্টমস, প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসিং, রিস্ক বেইজড এক্সামিনেশন ইত্যাদি পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে দ্রুত ক্লিয়ারেন্সের সুফল ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন না। চিঠিতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।