ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য ২৭৫টি পিকআপ ভাড়া করেছিল, কিন্তু ঈদের পরদিনও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য পড়ে ছিল। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাড়া করা পিকআপচালকের তালিকায় থাকা অধিকাংশ মুঠোফোন নম্বরই ভুয়া বা বন্ধ।
ভুয়া নম্বরের খেলা
উত্তর সিটির অঞ্চল-২ ও ৪-এর জন্য বরাদ্দ ৯০ জন পিকআপচালকের তালিকা থেকে প্রথম আলো মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে। ৫, ৬ ও ৭ জুন একাধিকবার ফোন করার পর দেখা যায়, ৩৫টি নম্বর বন্ধ, ১৭টি নম্বর সঠিক নয় এবং ১৫টি নম্বর আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। বাকি ২৩টি নম্বরের মধ্যে ৫টি ব্লক, তিনটিতে সংযোগ যায় না, তিনটি ফোন ধরেনি। যোগাযোগ হওয়া ১২ জনের কেউই পিকআপচালক নন; বরং তাঁরা কৃষক, গৃহিণী বা ব্যবসায়ী।
উদাহরণস্বরূপ, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য তালিকায় থাকা পিকআপচালক মো. ইলিয়াসের নম্বরে ফোন করলে কথা বলেন কক্সবাজারের টেকনাফের মোস্তফা আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'পিকআপ দূরের কথা, মোটরসাইকেলও চালাতে পারি না। কৃষিকাজ করি। কীভাবে আমার নম্বর সিটি করপোরেশনের নথিতে উঠল, তা বুঝতে পারছি না।'
ঠিকাদারের দাবি মাঠপর্যায়ে মেলেনি
অঞ্চল-২ ও ৪-এ বর্জ্য অপসারণের ঠিকাদার রিমি কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার হাসান আহমেদ দাবি করেন, চুক্তি অনুযায়ী সব পিকআপ সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার অন্যচিত্র। মিরপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভ্যান সার্ভিসের মালিক আবু সায়েম জানান, ঈদের দিন বেলা সাড়ে তিনটায় একটি পিকআপ এসেছিল, যাতে কোনো শ্রমিক ছিল না। অন্য চারজন ভ্যান সার্ভিস মালিক জানান, কোনো পিকআপই আসেনি।
উত্তর সিটির অঞ্চল-২-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, 'ঈদের আগের দিন তালিকা অনুযায়ী সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। ডাম্প ট্রাক, পে-লোডার—একটাও মেলে না ভাই। পরে ঠিকাদার বলছিল, গাড়ি টাইমমতো পাইয়া যাইবেন।'
প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ
প্রথম আলোর প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, 'চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদার যদি সব পিকআপ ব্যবহার না করে বা অনিয়ম করে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনটি প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
নগর-পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, 'উচ্চপর্যায়ে সদিচ্ছা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।'



