চট্টগ্রামের টেরিবাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান: দেশি পণ্য ভারতীয় বলে বিক্রির জালিয়াতি ধরা পড়েছে
চট্টগ্রাম নগরের টেরিবাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি অভিযানে ধরা পড়েছে দেশে তৈরি পাঞ্জাবি পোশাক ভারতীয় বলে বিক্রির বড় ধরনের জালিয়াতি। আজ শনিবার পরিচালিত এই অভিযানে ‘রাজস্থান’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়, যার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
জালিয়াতির পদ্ধতি ও অভিযানের বিস্তারিত
অভিযানের সময় ‘রাজস্থান’ নামের প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়, বাংলাদেশে তৈরি পাঞ্জাবি পোশাকে ভারতীয় স্টিকার লাগানো হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ জানান, একই পাঞ্জাবিতে ভারতীয় ও বাংলাদেশি দুটি আলাদা ট্যাগ পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় উল্লেখ করে অধিক মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছিল।
ফয়েজ উল্লাহ আরও বলেন, “এই ধরনের জালিয়াতি ভোক্তাদের প্রতারণার শামিল। আমরা কঠোরভাবে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা
একই অভিযানে ‘খাজানা’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পোশাকের পুরোনো স্টিকারের ওপর নতুন স্টিকার লাগিয়ে দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যা অভিযানে ধরা পড়ে।
অভিযানের তৃতীয় প্রতিষ্ঠান ‘কুদু’ নামের একটি দোকানকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইফতারসামগ্রী বিক্রি এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভোক্তা সুরক্ষা ও অধিদপ্তরের ভূমিকা
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের সকল তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তারা নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন বাজার ও বিপণন কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কাজ করছে।
এই অভিযানটি চট্টগ্রাম বিভাগে ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রামের টেরিবাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করেন, এর মাধ্যমে ভোক্তাদের আস্থা রক্ষা পাবে এবং সঠিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত হবে।
