ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণ: বিশেষজ্ঞ নেতৃত্বের প্রতি উদ্বেগ
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদের আকস্মিক অপসারণ জাতীয় অগ্রাধিকারগুলোর দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সরকার সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এই বিশেষজ্ঞের তিন বছরের চুক্তির মাত্র এক বছর পরেই তার পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রথম বিশেষজ্ঞ প্রধান হিসেবে ফারুক আহমেদের ভূমিকা
ফারুক আহমেদ ছিলেন ডিএমটিসিএলের প্রথম বিশেষজ্ঞ প্রধান, যিনি রেল ব্যবস্থার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এই দায়িত্বে এসেছিলেন। বছরের পর বছর এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকতেন আমলারা, যাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা সীমিত ছিল। আহমেদের নিয়োগ ছিল একটি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি।
তার কার্যকালে তিনি ঠিকাদার ও পরামর্শকদের প্রকল্প খরচ কমানোর জন্য চাপ দিয়েছেন, নিম্নমানের উপকরণ প্রতিস্থাপনে জোর দিয়েছেন এবং মেট্রোরেল ব্যবস্থায় ডজনখানেক প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো ঠিক এমন পেশাদার তত্ত্বাবধানের প্রতিফলন ছিল, যা এই ধরনের পদে প্রয়োজন।
আমলাতান্ত্রিক নিয়োগের প্রবণতা
আহমেদের অপসারণের পর এই দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীনভাবে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন আমলার হাতে দেওয়া হয়েছে। এই উন্নয়ন একটি বিস্তৃত উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে: অত্যন্ত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে সাধারণ প্রশাসকদের বসানোর প্রবণতা। বাংলাদেশ এই প্রবণতার সাথে অপরিচিত নয়।
অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে এই ধরনের ব্যবস্থা জটিল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয় ফলাফল খুব কমই দেয়। প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব প্রয়োজন। একটি মেট্রোরেল ব্যবস্থা পরিচালনা করা কেবল আরেকটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়।
ভবিষ্যতের প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
বাংলাদেশের সম্প্রসারিত নগর পরিবহন নেটওয়ার্ক ক্রমবর্ধমানভাবে পেশাদার দক্ষতার উপর নির্ভর করবে। যদি অনুরূপ সিদ্ধান্তগুলো আমলাতান্ত্রিক সুবিধার জন্য বিশেষজ্ঞদের পাশ কাটিয়ে চলতে থাকে, তবে দেশ তার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত করা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করার ঝুঁকিতে পড়বে।
এই সিদ্ধান্তটি বিশেষজ্ঞ নেতৃত্বের গুরুত্ব এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করে।
