বৈশ্বিক মন্দা কাটিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে অর্ডার ফিরতে শুরু করেছে। করোনা পরবর্তী সময়ে এই খাতে বড় ধরনের ধস নামলেও এখন আবার স্বস্তি ফিরছে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, গত কয়েক মাসে অর্ডারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
অর্ডার বৃদ্ধির কারণ
বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা নতুন সংগ্রহ শুরু করেছেন। এছাড়া চীনের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক ক্রেতা বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছেন। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতা ও গুণগত মানও ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে।
শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, আমরা অর্ডার ফিরে পাওয়ায় খুবই আনন্দিত। এটি আমাদের শিল্পের জন্য একটি বড় সুযোগ। আমরা আশা করি, সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি অর্ডার পাব।
তবে শিল্পোদ্যোক্তারা কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছেন। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের উচ্চ মূল্য তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তারা সরকারের কাছে এসব সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
শ্রমিকদের জন্য সুখবর
অর্ডার বাড়ায় কারখানাগুলোতে কাজের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে শ্রমিকদের overtime বেড়েছে এবং বেতনও বাড়ছে। শ্রমিকরা বলছেন, আগের তুলনায় এখন কাজ বেশি, তাই আয়ও বেড়েছে।
তবে শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলছে, অর্ডার বাড়লেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের ভূমিকা
সরকারও পোশাকশিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। রপ্তানি প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে। সরকার আশা করছে, এই শিল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। এই শিল্পের উন্নতি মানে দেশের অর্থনীতির উন্নতি।



