মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সুযোগে ঘরে ঢুকে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তার এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া বড়বোনকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিবেশী মিথুন দাস (২৭) নামে এক যুবককে আটক করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে অভিযুক্তের বাবা, চাচা, ভাইসহ স্বজনরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হাকালুকি হাওড়পাড়ের তালিমপুর ইউনিয়নের উত্তর বড়ময়দান গ্রামের মধ্যবিত্ত বকুল দাসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীদের একটি রাইসমিল রয়েছে। রাত সাড়ে ৭টায় রাইসমিলে কাজ করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে তাদের মা টর্চলাইট দিতে রাইসমিলে যান। এ সময় বসতঘরের দরজা খোলা পেয়ে প্রতিবেশী মিথুন দাস ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীর (১৬) হাত ধরে টানাহেঁচড়া করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীটি তার কবল থেকে ছুটে গিয়ে চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
এরপর মিথুন দাস ওই পরীক্ষার্থীর বড়বোনকে জাপটে ধরে খাটে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সে চিৎকারের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তার মুখ ও গলায় চাপ দেয়। ধস্তাধস্তিতে তার গলায় ও মুখে জখম হয়। পরে মা ও বাড়ির অন্য লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে অভিযুক্তকে আটক করেন।
আসামি ছিনতাই ও পুলিশের গ্রেফতার
আটকের খবর পেয়ে মিথুন দাসের বাবা, চাচা, ভাইসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন দা, লাঠিসোটা নিয়ে হামলা ও বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের বাবা ধর্ষণচেষ্টাকারী মিথুন দাস, তার বাবা মাখন চন্দ্র দাস, ভাই টিপু চন্দ দাস, চাচা অরুণ চন্দ্র দাস ও চাচাতো ভাই অরূপ দাসকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ অরুণ চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করে।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অরুণ চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



