ঈদ যাত্রায় যমুনা সেতুতে টোল আদায়ে রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের প্রধান সড়ক যোগাযোগের ধমনী যমুনা সেতুতে গাড়ি পারাপারের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই চাপের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে টোল আদায়ের পরিমাণও। গত বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেতুটি থেকে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ঈদ পূর্ববর্তী সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
গাড়ি পারাপার ও টোল আদায়ের বিস্তারিত পরিসংখ্যান
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৫১ হাজার ৫৮৪টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে। এই গাড়ি পারাপারের মাধ্যমে পূর্ব পাড় থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার ৬৫০ টাকা, অন্যদিকে পশ্চিম পাড় থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫০ টাকা। মোট টোল আদায়ের এই পরিমাণ প্রতি ঈদে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি হওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে, যা আসন্ন ঈদ যাত্রার তীব্রতা নির্দেশ করে।
যান চলাচলের অবস্থা ও কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে গাড়ি পারাপারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং ঈদ সন্নিকটে হওয়ায় গাড়ির চাপ অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৮টি টোল বুথ স্থাপন করা হয়েছে যানজট নিরসন ও দ্রুত টোল আদায়ের জন্য। এছাড়া, মোটরবাইকের জন্য দুই পাড়ে ২টি করে পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে, যা যাত্রীসুবিধা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
যদিও বর্তমানে সেতুতে তেমন কোনো যানজটের খবর নেই, তবে এলেঙ্গা থেকে যমুনাসেতু পর্যন্ত গাড়িগুলো ধীর গতিতে চলাচল করছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার মানুষ তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষের পূর্বপ্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ঈদ যাত্রাকে সহজতর করতে ভূমিকা রাখছে।
ঈদ যাত্রায় টোল আদায়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
যমুনা সেতু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করে। প্রতি ঈদে এই সেতুতে গাড়ি পারাপারের চাপ ব্যাপক হারে বাড়ে, ফলে টোল আদায়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য রূপে বৃদ্ধি পায়। এবারের টোল আদায়ের পরিসংখ্যানটি সেই ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করছে, যা দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবস্থিত যমুনা সেতুটি ১৯৯৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঈদ যাত্রার এই সময়ে সেতুটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপগুলো যাত্রীসেবাকে আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



