বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা হ্রাস
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টানা চার দফা কমার ধারাবাহিকতায় এবার সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হয়েছে। এই সমন্বয়ের ফলে নতুন করে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বাজুসের সিদ্ধান্ত ও দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা স্বর্ণের দাম কমার প্রভাবেই এই সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও কমেছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭ হাজার ৩৪৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ভরিতে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা কমে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ১৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।
রুপার দামেও কমানো
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দরে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট রুপা ভরিতে ২৯২ টাকা কমে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ২৯১ টাকা কমে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২৩৩ টাকা কমে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বিক্রি হবে।
দাম কমার পেছনের কারণ
এর আগে গত ১৪ মার্চ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে টানা চার দফায় স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় কাঁচামালের দামের পরিবর্তনের কারণেই দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এই দাম কমানো ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে, তবে বাজারের অবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাবের উপর ভবিষ্যতের দাম নির্ভর করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং দেশীয় মুদ্রার মানের পরিবর্তন এই প্রবণতাকে প্রভাবিত করতে পারে।



