ঈদে তৈরি পোশাক খাতের লেনদেন সচল রাখতে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সরকারি ছুটির মধ্যেও তৈরি পোশাক খাতের লেনদেন সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ ও ১৯ মার্চ (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখা হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং রফতানি বিল ক্রয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা করা।
সরকারি ছুটির মধ্যেও ব্যাংকিং কার্যক্রম
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ১৯ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের নির্ধারিত ছুটি। তবে এই সময়ে তৈরি পোশাক খাতের জরুরি লেনদেনের প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে ১০ মার্চ একটি নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল যেমন ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলো এ দুই দিন খোলা থাকবে। সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লেনদেনের সময়সূচি ও কর্মী ভাতা
ছুটির এই দুই দিনে ব্যাংকিং লেনদেনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেনদেন চলবে, অফিস কার্যক্রম দুপুর ২টা পর্যন্ত চালু থাকবে। এর মধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। এছাড়া, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রদানের নির্দেশও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা তাদের অতিরিক্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতের প্রতিক্রিয়া ও গুরুত্ব
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, ঈদকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক খাতে বেতন-বোনাস পরিশোধের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার ব্যবস্থা শ্রমিকদের সময়মতো প্রাপ্য পরিশোধ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে, কারণ রফতানি বিল ক্রয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি প্রধান চালিকাশক্তি, যা বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ঈদের মতো উৎসবের সময়ে শ্রমিকদের আর্থিক চাহিদা পূরণে এই বিশেষ ব্যাংকিং ব্যবস্থা সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
