ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে স্বাধীন পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে স্বাধীন পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ থেকে একজন স্বাধীন পরিচালককে অপসারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অপসারিত পরিচালক হলেন মো. আবদুল জলিল, যিনি ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ জমা পড়ার পর এবং একাধিকবার সতর্ক করার পর শেষ পর্যন্ত তাকে বোর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অপসারণের পটভূমি ও কারণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি অপসারণের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। ২০২৪ সালে পুনর্গঠিত বোর্ডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মো. আবদুল জলিলকে, যিনি ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

এর আগে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর দেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন করে। তৎকালীন সময়ে ব্যাংকটির ওপর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের প্রভাব কমাতে পাঁচজন স্বাধীন পরিচালক নিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। সেই পুনর্গঠিত বোর্ডের সদস্যদের একজন ছিলেন মো. আবদুল জলিল।

গভর্নরের বৈঠক ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যক্রম, পরিচালনা পদ্ধতি এবং নীতিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এই বৈঠকের পরই মো. আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বোর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন স্বাধীন পরিচালকের নিয়োগ

আবদুল জলিলকে অপসারণের পর ব্যাংকটির বোর্ডে নতুন স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এস এম আবদুল হামিদকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, নতুন পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার হবে।

ব্যাংক খাতে সংস্কারের ধারাবাহিকতা

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে এই পরিবর্তন বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ। গত কয়েক বছরে ব্যাংকটির পরিচালনা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধাপে ধাপে ব্যাংকটির পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। বোর্ড পুনর্গঠন, পরিচালকদের পরিবর্তন এবং তদারকি জোরদারের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম বড় এই শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আরও বাড়তে পারে। এই পদক্ষেপগুলো ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।