গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তার বদলি, শোকজের পর পদায়ন
গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় ব্যাংকের তিন কর্মকর্তার বদলি

গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তার বদলি

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় শোকজের মুখে পড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জারি করা কর্মচারী নির্দেশ নং–এইচআরডি–১:১৩১/২০২৬ অনুযায়ী এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কর্মকর্তাদের নতুন পদায়ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশে বলা হয়, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে— এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তাফাকে বরিশাল অফিসে বহাল করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ–১–এর অতিরিক্ত পরিচালক এ.কে.এম মাসুম বিল্লাহকে রংপুর অফিসে বদলি করা হয়েছে। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ–২–এর অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফাকে বগুড়া অফিসে বহাল করা হয়েছে।

নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের কার্যভার প্রতিবেদন যথারীতি মানবসম্পদ বিভাগে দাখিল করবেন।

শোকজের প্রেক্ষাপট

এর আগে একই দিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে; জবাব সন্তোষজনক না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শোকজপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন— বাংলাদেশ ব্যাংকের নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও পরিচালক নওশাদ মোস্তাফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ.কে.এম মাসুম বিল্লাহ এবং একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ।

সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা

জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা গভর্নরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। সেখানে দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে এক্সিম ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া এবং সাম্প্রতিক নীতিনির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একই সঙ্গে গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দেওয়া হয়।

স্টাফ রেগুলেশনের বিধান

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের সংবাদ সম্মেলন বা গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা অভ্যন্তরীণ ফোরামে আলোচনার বিধান রয়েছে; সরাসরি সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, ১৬ ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একই দিনের পর্ষদ সভার এজেন্ডা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স মূল্যায়নসহ আটটি এজেন্ডা নিয়ে পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।