আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো দেখা গেল ‘টাইমড আউট’-এর ঘটনা। পুরুষ ক্রিকেটে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের বহুল আলোচিত ‘টাইমড আউট’-এর পর এবার নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও রচিত হলো নতুন ইতিহাস। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) নারী প্রিমিয়ার কাপে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে ভুটানের ব্যাটার রিতশি চোদেন নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ‘টাইমড আউট’ হলেন।
ঘটনার বিবরণ
মালয়েশিয়ার মানতিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নেপালের দেওয়া ১১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল ভুটান। রান তাড়ার মাঝেই নাটকীয় এই ঘটনার জন্ম হয়। ভুটানের ইনিংসের ঠিক প্রথম বলেই ঘটে এই ঘটনা। ওপেনার নগাওয়াং চোদেন গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরে যাওয়ার পর মাঠে নামার কথা ছিল রিতশি চোদেনের। কিন্তু তিনি ক্রিজে আসতে নির্ধারিত ৯০ সেকেন্ডের বেশি সময় পার করে ফেলেন।
রিতশি যখন মাঠের দিকে আসছিলেন, তখন তার হাতে ছিল গ্লাভস ও হেলমেট। তিনি ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই সময় পেরিয়ে যাওয়ায় নেপালের ফিল্ডাররা আম্পায়ারের কাছে আউটের আবেদন জানান। নেপালের ব্যাটার পূজা মাহাতো আম্পায়ারের দিকে এগিয়ে গিয়ে আউটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং আবেদন তোলেন। এরপরই আম্পায়ার সুন মেং ইয়াও এবং অঙ্কিতা গুহ নিয়ম অনুযায়ী রিতশি চোদেনকে ‘টাইমড আউট’ ঘোষণা করেন। কোনো প্রকার প্রতিবাদ না করেই মাঠ ছাড়েন ভুটানি ব্যাটার। ফলে ১ বল শেষে কোনো রান না তুলতেই ২ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে ভুটান।
নেপাল ক্রিকেটের ক্ষমা প্রার্থনা
ম্যাচটিতে নেপাল শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেও তাদের নারী দলের এমন আচরণকে ক্রিকেটের স্পিরিট বা খেলোয়াড়ি সুলভ আচরণের পরিপন্থী বলে মনে করছে খোদ নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। ম্যাচ শেষে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভুটান ক্রিকেট ও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছে তারা। নেপাল ক্রিকেট বোর্ড তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘আজকের ম্যাচে ভুটানের ব্যাটারের টাইমড আউট হওয়ার ঘটনাটি নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন যে মূল্যবোধ ও ক্রিকেটের স্পিরিট লালন করে, তার সঙ্গে মোটেও মিলে না। আমাদের নারী জাতীয় দলের এমন আচরণের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৩ রান করে নেপাল নারী ক্রিকেট দল। জবাবে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬২ রানেই গুটিয়ে যায় ভুটান। ফলে ৫১ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় নেপাল। তবে এই জয়ের চেয়েও বেশি আলোচিত হয়েছে টাইমড আউটের ঘটনা, যা নারী ক্রিকেটে প্রথম বলে বিবেচিত হচ্ছে।



