ফ্রান্সের জাতীয় মূলমন্ত্র 'লিবার্তে, এগালিতে, ফ্রাতের্নেতে'র বাংলা অর্থ 'স্বাধীনতা, সমতা ও একতা'। ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের পর ফরাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মূলমন্ত্র বদলে যায় 'স্বাধীনতা, সমতা ও এমবাপ্পে'তে। এবারের বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের ত্রয়ী এমন পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে যে মূলমন্ত্রটি 'এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও ওলিসে' হয়ে যেতে পারে।
ত্রয়ীর পরিসংখ্যান: গোল ও অ্যাসিস্টের ফুলঝুরি
এখন পর্যন্ত এমবাপ্পে বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করেছেন। বেশি অ্যাসিস্টের কারণে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে তিনি। মরক্কোর বিপক্ষে দেম্বেলে টুর্নামেন্টে নিজের পঞ্চম গোল করেন, যা ফ্রান্সের একমাত্র হ্যাটট্রিক। ওলিসে এখনো গোল না পেলেও ৫ অ্যাসিস্ট করে অ্যাসিস্ট তালিকায় শীর্ষে। তাঁর সামনে পেলের এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬ অ্যাসিস্টের কীর্তি।
ব্রাজিলের 'থ্রি আর'-কে ছাড়িয়ে
এমবাপ্পে ও দেম্বেলে এক বিশ্বকাপে একই দলের দুই খেলোয়াড়ের অন্তত পাঁচ গোলের কীর্তি স্পর্শ করেছেন, যা সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে করেছিলেন ব্রাজিলের রোনালদো (৮ গোল) ও রিভালদো (৫ গোল)। ওলিসেকে তরুণ রোনালদিনিওর সাথে তুলনা করা হচ্ছে। ফ্রান্সের এই ত্রয়ীর মোট গোল ও অ্যাসিস্ট ২৩টি, যা ২০০২ ব্রাজিলের 'থ্রি আর'-এর ২০টি ছাড়িয়ে গেছে। সামনে আরও ম্যাচ থাকায় এই সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
প্রশংসায় ভাসছে ফরাসি আক্রমণ
ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচের পর নরওয়ের কোচ স্তালে সলবাকেন বলেন, 'ফ্রান্সের আক্রমণ সন্দেহাতীতভাবে এই বিশ্বকাপের সেরা।' সুইডেন কোচ গ্রাহাম পটার জানান, ফ্রান্সের আক্রমণ থামানো সম্ভব কিনা তিনি জানেন না। ফ্রান্সের আক্রমণভাগের সদস্য ব্রাডলি বারকোলা বলেন, 'এই তিনজনের সাথে খেলাটাই অবিশ্বাস্য অনুভূতি।'
ইতিহাসের ত্রয়ীর সাথে তুলনা
১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সে কোনো ত্রয়ী ছিল না; ফাইনালে সর্বোচ্চ স্কোরার থিয়েরি অঁরি প্রথম একাদশে খেলেননি। ২০১৮ বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ছাড়া গ্রিজমান ও জিরু ছিলেন। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার এমএসএন (মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ) ও রিয়াল মাদ্রিদের বিবিসি (বেল-বেনজেমা-রোনালদো) ত্রয়ীর সাথে এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসের তুলনা করা হচ্ছে। তাঁদের 'টেলিপ্যাথিক' বোঝাপড়া এতটাই দুর্দান্ত যে এটাই বিশ্বকাপে তাদের প্রথম বড় আসর একসঙ্গে।



