আর্লিংটনে কোয়ার্টার ফাইনালের রাতে মরক্কোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমে গেল ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে। দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটের ব্যবধানে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের দুই গোলই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
পেনাল্টি মিস হওয়া সত্ত্বেও চাপ ধরে রাখতে ব্যর্থতা
২৫ মিনিটে মাজরাউইর ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স, আর এমবাপ্পে সেটি নষ্টও করেন। এই মুহূর্তটাই ছিল মরক্কোর জন্য মোমেন্টাম ধরার সবচেয়ে বড় সুযোগ। কিন্তু পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে তারা সেই স্বস্তিকে আক্রমণে রূপান্তর করতে পারেনি, উল্টো রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে গেছে।
উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাব
শীর্ষ দুই খেলোয়াড় চাদি রিয়াদ ও ইসমাইল সাইবারি ছিলেন না মরক্কো একাদশে, চোটের কারণে তাদের পায়নি দলটি। সে কারণেই যেন মরক্কো মাঠে নেমেছিল ড্র করার লক্ষ্য নিয়ে, জেতার জন্য নয়। বল দখলে রেখে সময় পার করা ছাড়া তেমন কোনো বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি তারা প্রথম ৪৫ মিনিটে। এমনকি দ্বিতীয়ার্ধে যখন ২ গোলে পিছিয়ে দলটি, তখনও শেষ হাইড্রেশন ব্রেকের পর চাপ বাড়াতে পারেনি ফ্রেঞ্চ রক্ষণে।
রক্ষণে ব্যক্তিগত ভুল
মাজরাউইর পেনাল্টি ফাউল দিয়ে শুরু, সবশেষে এমবাপ্পে ও দেম্বেলের দুই গোলের সময় রক্ষণে ছিল ঢিলেঢালা মার্কিং। বিশেষ করে দেম্বেলের গোলের আগে তাকে বক্সের আগ পর্যন্ত কোনো বাধা ছাড়াই এগিয়ে আসতে দিয়েছিল মরক্কো। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এমন ঢিলেঢালা ডিফেন্ডিংয়ের খেসারতই দিতে হয়েছে মরক্কানদের।
এমবাপ্পে-দেম্বেলের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের মানের পার্থক্য। এমবাপ্পে ৬০ মিনিটে দুর্দান্ত এক কার্লার শটে বল জালে জড়ান, আর মাত্র ছয় মিনিট পর দেম্বেলে দূরপাল্লার শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। মরক্কোর কিছু ভালো সুযোগ থাকলেও (হাকিমির হেড, এল আয়নাউইর হেড, উনাহির শট) ফিনিশিংয়ে সেই ধার ছিল না, যা ফ্রান্সের ছিল।
পরিবর্তনগুলো কাজে দেয়নি
এল খানুস ও বুয়াদ্দিকে তুলে আমরাবাত-রাহিমিকে নামানো কিংবা পরে সালাহ-এদ্দিন ও দিয়াজের বদলে নতুন খেলোয়াড় আনা… কোনো পরিবর্তনই খেলার চিত্র বদলাতে পারেনি। দিয়াজ ও বুয়াদ্দির মতো খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও ছিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচে।
এই জয়ে ফ্রান্স সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন অথবা বেলজিয়াম। অন্যদিকে মরক্কোর বিশ্বকাপ যাত্রা থামল কোয়ার্টার ফাইনালেই।



