পাকিস্তানের কারাগারে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খানের কারাগারে স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একদল সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। তারা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ইমরান খানের জন্য "তাৎক্ষণিক ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা" নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগ
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক এই ক্রিকেটাররা ইমরান খানের কারাবাসের সময়কালে তার দৃষ্টিশক্তির অবনতি ও কারাগারের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন তারা।
সাবেক ক্রিকেটারদের যৌথ উদ্যোগ
এই আবেদনপত্রটি প্রণয়ন করেছেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল। এতে স্বাক্ষর করেছেন সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, অ্যালান বর্ডার, ইয়ান চ্যাপেল, জন রাইট ও ডেভিড গাওয়ারের মতো বিশিষ্ট ক্রিকেট ব্যক্তিত্বরা। তারা ইমরান খানের জন্য জরুরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, মানবিক কারাবাসের পরিবেশ, নিয়মিত পরিবারের সাক্ষাৎ ও ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
ইমরান খানের পরিবার সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যে তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। তারা বলেছে, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়া কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য নয়। ইমরান খানের বোন আলীমা খান অভিযোগ করেছেন যে কর্তৃপক্ষ মাসের পর মাস তার চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগ উপেক্ষা করেছে, যার ফলে তার দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইমরান খানের ক্রিকেট ও রাজনৈতিক জীবন
৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক অলরাউন্ডার ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন এবং তাকে দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০২২ সালে অস্থায়ী আস্থা ভোটে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হন এবং পরবর্তীতে একাধিক অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়, যা তিনি অস্বীকার করেন।
সমর্থকদের বিক্ষোভ
তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সমর্থকরা সম্প্রতি সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন, ইমরান খানের জন্য যথাযথ চিকিৎসা সেবা এবং তার পরিবার ও চিকিৎসকের প্রবেশাধিকারের দাবিতে। এই বিক্ষোভে তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও প্রকট হয়েছে।
