ইরানি নারী ফুটবলারের আশ্রয় প্রত্যাখ্যান: অস্ট্রেলিয়ায় বাকি ছয়জনকে সরিয়ে নেওয়া
অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ইরানের এক নারী ফুটবলার তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বুধবার পার্লামেন্টে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, খেলোয়াড়টি প্রথমে আশ্রয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
টনি বার্ক বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ায় মানুষের মত পরিবর্তনের এবং ভ্রমণের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি যে প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমরা তাকে সম্মান জানাই।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান নারী দলের মোট সাত সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে সম্মত হয়েছিলেন, কিন্তু এখন একজন প্রত্যাখ্যান করায় বাকি ছয় নারীকে আলাদা জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
গত মাসে এএফসি এশিয়ান কাপে খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় আসে ইরানের নারী ফুটবল দল। এর কয়েক দিন পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীতে গলা না মেলানোয় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম খেলোয়াড়দের 'যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক' বলে অভিহিত করে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেকে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
দলটি গত রোববার এশিয়ান কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে অস্ট্রেলিয়া ছাড়ে। তবে ইরানি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয়রা সিডনি ত্যাগ আটকে দিতে টিম হোটেল ও বিমানবন্দরে অবস্থান নেন, কারণ তাঁরা আশঙ্কা করেন দেশে ফিরলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
আশ্রয় প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দলটি সিডনি ছাড়ার সময় অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তা ও দোভাষীরা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে আলাদাভাবে ডেকে মানবিক আশ্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। 'তাদের পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আমরা নিশ্চিত করেছি যেন কোনো তাড়াহুড়ো বা চাপ না থাকে,' বলেন বার্ক।
প্রথমে পাঁচজন খেলোয়াড় আশ্রয় নিতে সম্মত হন:
- অধিনায়ক জাহরা গানবারী
- ফাতেমেহ পাসানদিদেহ
- জাহরা সারবালি
- আতেফেহ রামেজানিজাদেহ
- মোনা হামুদি
এছাড়া একজন সাপোর্ট স্টাফসহ মোট সাতজনের জন্য সাময়িক মানবিক ভিসার ব্যবস্থা করা হয়, যা স্থায়ী বসবাসের পথ তৈরি করবে।
আইনজীবীর সতর্কতা
আশ্রয়প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ইরানি শরণার্থী আইনজীবী আরা রাসুলি বলেন, যে খেলোয়াড়েরা ইরানে ফিরেছেন তাঁরা মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হতে পারেন এবং তাঁদের পরিবার শাসকের প্রতিশোধের মুখে পড়তে পারে। 'তারা অনেক বিপদের মধ্যে আছে। পরিবারের সদস্যদের আটক করা, সম্পত্তি দখলের মতো হুমকি রয়েছে...এই হুমকির কারণেই বেশির ভাগ মেয়ে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে,' বলেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নারী খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়ায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। তবে মঙ্গলবার জানা যায় যে অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছু নারীর গোপন আলোচনা চলছিল। পরে ট্রাম্প ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ফোনে কথা বলেন এবং ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রশংসা করেন।
এই ঘটনা ইরানের নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চাপের দিকটি উন্মোচিত করে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
