২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক সংকট: যুক্তরাষ্ট্রে খেলবে না 'পার্সিয়ান লায়ন'রা
বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক সংকট

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক সংকট

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস বাকি থাকলেও, ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ শুরুর আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব এবার বিশ্বকাপের গায়েও লেগেছে। ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশ নেবে না।

ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রীর কঠোর অবস্থান

ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, 'যে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে, কোনো অবস্থাতেই আমরা তাদের দেশে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারি না।' তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে গত আট-নয় মাসে ইরানের ওপর দুটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, যা তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ ও ম্যাচ সূচি

গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্র অনুযায়ী, ইরান গ্রুপ 'জি'-তে স্থান পেয়েছে, যেখানে তাদের সঙ্গী বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড। ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা ছিল—দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে। যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দলই নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে, তাহলে ৩ জুলাই শেষ ৩২-এর ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

ফিফার আশাবাদ ও ট্রাম্পের ভূমিকা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখনো আশাবাদী যে ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইনফান্তিনো ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন যে ট্রাম্প তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি দেওয়া হবে এবং তাদের অংশগ্রহণে কোনো আপত্তি নেই। ইনফান্তিনো বিশ্বাস করেন যে বিশ্বকাপ বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা কাটাতে একটি বড় উপলক্ষ হতে পারে।

ফিফার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য পরিণতি

ফিফার বিশ্বকাপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হেইমো শিরগি বলেছেন যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে টুর্নামেন্ট পেছানোর সুযোগ নেই, কারণ এটি একটি বিশাল আয়োজন। তবে ফিফা ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদি ইরান শেষ পর্যন্ত না খেলে, ফিফার পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষত যখন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র নিজেই জড়িত।

এই সংকট ফুটবল ও রাজনীতির জটিল সম্পর্ককে আবারও উন্মোচিত করেছে, এবং বিশ্বকাপের আগামী দিনগুলোতে কী ঘটবে তা সবার নজর রাখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।