যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়াল ইরান
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, চলতি বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপে তারা অংশ নেবে না। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
হামলা-পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালায়, যার প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। আমাদের ওপর কয়েক মাসের ব্যবধানে দুইটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।’
বিশ্বকাপের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ অনিশ্চিত
তিনি আরও যোগ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফুটবল খেলা সম্ভব নয়। তাই ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার আগে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হবে এবং তাদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
তবে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে সেই সম্ভাবনা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সংঘাত ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে এবং এটি বিশ্বকাপের পূর্বপ্রস্তুতিকে ব্যাহত করতে পারে।
বিশ্বকাপের সূচি ও ইরানের অবস্থান
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের খেলার কথা ছিল নিউজিল্যান্ড এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে। এছাড়া সিয়াটলে তাদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল মিসরের দলের।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ তাদের অনুপস্থিতিতে গ্রুপের অন্যান্য দলের জন্য পয়েন্ট ও অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে। ফিফা এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে তারা সম্ভবত শীঘ্রই একটি বিবৃতি দিতে পারে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও রাজনীতির মধ্যে জটিল সম্পর্ককে আরও উন্মোচিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন।
