এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অভিষেক: হারলেও জয়ী মনোবল
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অভিষেক হয়েছে দুর্দান্তভাবে, যদিও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে ২-০ গোলে হারতে হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যদের। পুরো ম্যাচে চোখ চোখ রেখে লড়াই করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, যা দলের মনোবল ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার কোচের সতর্ক অবস্থান
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ম্যাচ পূর্বে সংবাদ সম্মেলনে আসেন উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সন হো। এবারের এশিয়ান কাপে ১২ দলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফিফা র্যাংকিং উত্তর কোরিয়ার, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৭ নম্বরে তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশ দল ১১২ নম্বরে অবস্থান করছে।
তবে বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ দেখার পর আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রি সন হো। তিনি বলেন, 'আমি এখানে বসে চীন বনাম বাংলাদেশ ম্যাচটি দেখেছি। আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুত। বিশেষ করে ট্রানজেকশন পিরিয়ডে (রক্ষণ থেকে আক্রমণ) তারা বেশ দক্ষ এবং তীক্ষ্ণ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশ খুব দ্রুতগতির দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়।'
ঋতুপর্ণা চাকমাসহ তিন খেলোয়াড় নিয়ে বিশেষ সতর্কতা
ঋতুপর্ণা চাকমাসহ বাংলাদেশের তিন ফুটবলারকে নিয়ে বেশ সতর্ক অবস্থানে উত্তর কোরিয়ার কোচ। তিনি বলেন, 'মূলত আমি আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী (ঋতুপর্ণা চাকমা) নিয়ে আমি সতর্ক, যিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারেন।'
উত্তর কোরিয়ার কোচ আরও বলেন, 'আমি একটু আগেই বলেছি তাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের গতি অনেক বেশি। আক্রমণ এবং রক্ষণ উভয়ক্ষেত্রেই তাদের গতি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তাই আগামীকাল ম্যাচে এই খেলোয়াড়দের রুখতে আমাদের রক্ষণভাগকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।'
এই মন্তব্য বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এশিয়ান কাপে তাদের পরবর্তী ম্যাচে এই সতর্কতা কীভাবে কাজে লাগে, তা দেখার অপেক্ষায় থাকবে ক্রীড়াপ্রেমীরা।
