উত্তর কোরিয়ার কোচের সতর্কতা: বাংলাদেশ ফুটবল দলকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই
উত্তর কোরিয়ার কোচ: বাংলাদেশ ফুটবল দলকে খাটো দেখার সুযোগ নেই

উত্তর কোরিয়ার কোচের সতর্ক বার্তা: বাংলাদেশ ফুটবল দলকে অবমূল্যায়ন করবেন না

চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার একটি দূরপাল্লার শট প্রায় জালে জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা উত্তর কোরিয়ার দলকে সতর্ক করে দিয়েছে। রাঙামাটির এই প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স দেখে উত্তর কোরিয়া এখন সজাগ। শুক্রবার সকাল ৮টায় সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে উত্তর কোরিয়া।

কোচের মুখে বাংলাদেশের শক্তির স্বীকৃতি

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে উত্তর কোরিয়ার কোচ রিসন হো দোভাষীর মাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি এখানে এসে চীন ও বাংলাদেশের ম্যাচটি দেখেছি। আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের আক্রমণভাগ খুব দ্রুতগতির এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার গতি ও দক্ষতাও বেশ তীক্ষ্ণ। তারা খুব দ্রুতগতির একটি দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী থাকতে হবে, যাতে তারা গোল করার কোনও সুযোগ না পায়।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে তারা বিপজ্জনক মনে করছেন। বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী ঋতুপর্ণা চাকমাকে নিয়ে তারা বিশেষ সতর্ক, যিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ চালাতে পারেন। কোচের মতে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের গতি উত্তর কোরিয়ার দলকে ভাবিয়ে তুলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রুপ পর্বের লক্ষ্য ও কৌশল

গ্রুপ পর্বে উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্য সবগুলো ম্যাচ জেতা। কোচ রিসন হো বলেন, ‘আমি পরিস্থিতি বুঝতে পারছি যে দুটি ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচটি যদি ড্র হয়, তাহলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু এটি আমাদের প্রধান কৌশল নয়। আমরা গ্রুপের তিনটি ম্যাচই জিততে চাই। তাই গোল ব্যবধান বাড়িয়ে সুবিধা নেওয়ার চেয়ে আমরা প্রতিটি ম্যাচ জয়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। তিনটি দলই খুব শক্তিশালী। কোনও দলকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। আগামীকালের ম্যাচটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে। গতকালের চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দেখে তার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ অনেক বড় অগ্রগতি করেছে এবং এখন তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে উঠে আসছে।

ক্রিকেটের দেশের ফুটবল উন্নয়ন

বাংলাদেশের নাম শুনলে প্রথমে কী মনে পড়ে—এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ রিসন হো হাসতে হাসতে বলেন, ‘আর বাংলাদেশ বললে কি প্রথমে ক্রিকেটের কথাই মনে পড়ে না?’ তবে তিনি দ্রুত যোগ করেন যে, ফুটবল ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অগ্রগতি লক্ষণীয়।

উত্তর কোরিয়ার কোচের এই মন্তব্য বাংলাদেশ ফুটবল দলের ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিরই ইঙ্গিত দেয়। আগামী ম্যাচে বাংলাদেশের দ্রুতগতির আক্রমণ মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়ার রক্ষণভাগকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।