নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের শক্তিতে চিন্তিত উত্তর কোরিয়ার কোচ
নারী এশিয়ান কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের 'বি' গ্রুপে বাংলাদেশ দলের অভিষেক ম্যাচে প্রদর্শিত শক্তিশালী পারফরম্যান্স উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সন হোকে চিন্তিত করে তুলেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ দল সম্পর্কে প্রশংসা করার পাশাপাশি বিশেষ করে তিনজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের দ্রুতগতির আক্রমণভাগ নিয়ে সতর্কতা
উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সন হো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুত। বিশেষ করে রক্ষণ থেকে আক্রমণে তারা বেশ দক্ষ এবং তীক্ষ্ণ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশ খুব দ্রুতগতির দল।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়। বাংলাদেশের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের গতি অনেক বেশি। আক্রমণ এবং রক্ষণ উভয়ক্ষেত্রেই তাদের গতি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।'
ঋতুপর্ণা চাকমা বিশেষ হুমকি
বাংলাদেশের কোন খেলোয়াড়রা উত্তর কোরিয়ার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ রি সন হো বলেন, 'মূলত আমি আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী (ঋতুপর্ণা চাকমা) নিয়ে আমি সতর্ক, যিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারেন।'
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে ঋতুপর্ণা চাকমার পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। ১৪ মিনিটে তিনি ক্ষিপ্রগতিতে বল কেড়ে নিয়ে দূর থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন, যা গোল হলে টুর্নামেন্টের সেরা গোলের তালিকায় স্থান পেতে পারত।
গ্রুপ পরিস্থিতি ও কৌশলগত দিক
১২ দলের এই টুর্নামেন্টে তিনটি গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দুই দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। উত্তর কোরিয়ার কোচ গোল ব্যবধান নিয়ে কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, 'আমি পরিস্থিতি বুঝতে পারছি যে দু'টি ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচটি যদি ড্র হয় তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল সুবিধা পাবে। কিন্তু এটি আমাদের প্রধান কৌশল নয়। আমরা গ্রুপের তিনটি ম্যাচই জিততে চাই।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'গোল ব্যবধান বাড়িয়ে সুবিধা পাওয়ার চেয়ে প্রতিটি ম্যাচে জোর দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।'
দীর্ঘ বিরতির পর উত্তর কোরিয়ার প্রত্যাবর্তন
উত্তর কোরিয়া দল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যে কোনো দেশের জন্যই কঠিন বলে স্বীকার করেন কোচ রি সন হো। বাংলাদেশ কোচকেও সীমিত ভিডিও ফুটেজ নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। তবে তিনি এটিকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে মানতে নারাজ।
'দীর্ঘ ১০ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে আসার কারণে আমরা অনেকটা নতুন দলের মতোই। তাই আমরা নিজেদের খুব বেশি শক্তিশালী ভাবছি না। বাংলাদেশের মতো আমরাও প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি।'—বলেন উত্তর কোরিয়ার কোচ।
বাংলাদেশের দ্রুত উন্নতি স্বীকৃতি
বাংলাদেশ সাধারণত উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে খেলে না। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ক্লাব ঢাকা আবাহনী উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ২৫ দলের মুখোমুখি হয়েছিল। ছয় বছর পর আবার দুই দেশের লড়াই প্রসঙ্গে কোচ বলেন, 'পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান বেশ নিচে ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমি দেখতে পাচ্ছি যে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আপনি ২০১৯ সালের ম্যাচের কথা বললেন, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি গতকালের (চীনের বিপক্ষে) ম্যাচ দেখে যা বুঝেছি, বাংলাদেশ দল অনেক বড় এবং দ্রুত উন্নতি করেছে। এখন তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।'
নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের এই অভিষেক টুর্নামেন্টে দলের পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে ঋতুপর্ণা চাকমার মতো খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষ দলের কোচদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
