ট্রাম্পের মন্তব্য: বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ, উত্তেজনা বাড়ছে
বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে কি না, ট্রাম্প পাত্তা দিচ্ছেন না

বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের উদাসীনতা, উত্তেজনা বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ নিয়ে স্পষ্টভাবে উদাসীনতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেবে কি না, সেটা তিনি ‘পাত্তা দিচ্ছেন না।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে, যা বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও ইরানের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। মাত্র তিন মাস পর শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প ‘পলিটিকো’কে বলেছেন, ‘আমি সত্যিই পাত্তা দিচ্ছি না, ইরান খেলার সুযোগ পাচ্ছে কি না! আমি মনে করি ইরান এখন পরাজিত দেশ। তারা প্রায় শক্তিহীন হয়ে গেছে।’ ইরান টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’–তে থাকা ইরান ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে। ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার পর ২৬ জুন সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ মিসর।

ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সংশয়

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা মেরেছিল, তখনো দেশটি প্রতিযোগিতা থেকে সরে যায়নি। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ায় ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ক্রীড়া পোর্টাল ‘ভারজেশ থ্রি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাজ বলেছেন, ‘এ হামলার পর বিশ্বকাপ সামনে রেখে আমাদের কাছ থেকে আশাবাদী হওয়ার প্রত্যাশা করা যায় না, এটুকু নিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা আমাদের মাতৃভূমিতে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনা বিনা জবাবে পার পাবে না।’ একই বিষয়ে ইরানের সরকারি টেলিভিশনে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আমরা বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারব, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। ক্রীড়ার বিষয়টি যাঁরা দেখেন, তাঁরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

ফিফার প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম শনিবার বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে এমন একটি নিরাপদ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা।’ এই মন্তব্য বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।