চীনের বিপক্ষে হারেও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ, ঋতুপর্ণার গোল বঞ্চনা নিয়ে আক্ষেপ
চীনের বিপক্ষে হারেও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল

চীনের বিপক্ষে হারেও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে শক্তিশালী চীন দলের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল ২-০ গোলে পরাজিত হলেও তাদের লড়াকু মনোভাব ছিল প্রশংসনীয়। গতকাল ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দর্শকদের নজর কেড়েছে, যদিও ঋতুপর্ণা চাকমার একটি গোল সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় দলে কিছুটা আক্ষেপ রয়ে গেছে।

ঋতুপর্ণার গোল বঞ্চনা ও দলের প্রতিক্রিয়া

ম্যাচের সময় ঋতুপর্ণা চাকমার একটি দূরপাল্লার শট চীনের গোলকিপার চেন চেনের বাধায় গোল হয়ে উঠতে পারেনি। এই ঘটনা নিয়ে দলের মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা বলেন, ‘অবশ্যই, আফসোস তো থাকবেই। কারণ, একটা ভালো টিমের সঙ্গে যেটা চান্স আসে, তা যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে সেটা আমাদের জন্যই অনেক ভালো। আমরা ওর শটের ভিডিওটা অনেকবার দেখেছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে হার ছাপিয়ে ভালো খেলার চেষ্টাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

মারিয়া মান্দার মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আজ সকালে সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুশীলনের পর মারিয়া মান্দা বলেন, ‘আমরা একটা কঠিন দলের সঙ্গে খেলেছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি...আমাদের যে চেষ্টা ছিল সে চেষ্টাকে আসলে আমরা সফল করতে পেরেছি।’ ৯ বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে মাত্র দুই গোল খাওয়াকে তিনি একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন। সামনে উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হতে গিয়ে তিনি সতর্ক করেন, ‘কোনো টিমকে আসলে সাধারণ ভাবা যাবে না। আমাদের গ্রুপের সব দলই কিন্তু অনেক শক্তিশালী। খেলার ফলাফল মাঠের লড়াইয়ের ওপরই নির্ভর করে।’

গোলকিপার মিলির নৈপুণ্য ও দলের মনোবল

ম্যাচে বাংলাদেশ দলের অন্যতম ইতিবাচক দিক ছিল গোলকিপার মিলির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। মারিয়া মান্দা তাঁর প্রশংসা করে বলেন, ‘যদিও শুরুতে কিছুটা সংশয় ছিল যে, সে কেমন করবে। কিন্তু তারপরেও ওটা বুঝতে দেয় নাই সে আমাদের। সে নিজের পারফরম্যান্সটা ভালোভাবে দিয়েছে। আমাদের মনের ভেতর আস্থা ছিল তাকে নিয়ে।’ ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা পরিশ্রান্ত থাকায় বোনাস নিয়ে আলোচনা না হলেও ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট তাদের উৎসাহিত করেছেন বলে জানান তিনি।

অনুশীলন ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

সবশেষে মারিয়া মান্দা এই অর্জনের কৃতিত্ব নিয়মিত অনুশীলন এবং দেশ-বিদেশের সমর্থকদের দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত প্র্যাকটিস করছি, তারই ফল পেয়েছি। বিশেষ করে দেশের বাইরে বা দেশে যাঁরা আমাদের উৎসাহিত করেছেন, তাঁদের জন্যই আসলে ভালো কিছু করতে পেরেছি।’ ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচে দলটি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিকল্পনা করেছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য আশাব্যঞ্জক সংকেত।