এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অভিষেক
২০২৬ সালের ৩ মার্চ, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এএফসি নারী এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ হবে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন নারী ফুটবল দল, যা এই টুর্নামেন্টে একটি চ্যালেঞ্জিং সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনের কোচ আন্তে মিলিচিচের সতর্ক বার্তা
চীনের নারী ফুটবল দলের কোচ আন্তে মিলিচিচ বাংলাদেশ দলকে নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'প্রতিটি প্রতিপক্ষই এই টুর্নামেন্টে কঠিন হবে, কারণ এখন সব দল আগের চেয়ে বেশি ফিট এবং সংগঠিত।' মিলিচিচ আরও উল্লেখ করেন, 'প্রথম প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে, কারণ তারা প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলতে এসেছে এবং তাদের অনুপ্রেরণা উচ্চ থাকবে।'
অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মিলিচিচ ২০১৯ সালে ফিফা নারী বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলকে শেষ ষোলোতে নিয়ে যাওয়ার সাফল্য অর্জন করেন। ২০২৪ সালে তিনি চীন নারী দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এখন তার নেতৃত্বে দলটি এশিয়ান কাপে শিরোপা ধরে রাখতে প্রস্তুত।
বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি মসৃণ ছিল না বলে জানা গেছে। ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার সিডনিতে দলকে নিয়ে চারটি অনুশীলন সেশন পরিচালনা করেছেন। বুধবার ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্স নারী এফসির বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হয়েছে, যার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও জানা গেছে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। এই ম্যাচে দলের ২৬ জন খেলোয়াড়ই সুযোগ পেয়েছেন, যা দল গঠনের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন দল সহজ প্রতিপক্ষ নয়, যদিও ২০২৩ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপের পর থেকে তাদের ছন্দে কিছু সমস্যা রয়েছে। বাংলাদেশ দল তাদের প্রথম ম্যাচে কঠিন লড়াই করতে প্রস্তুত এবং অভিষেক ম্যাচে একটি ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এই প্রতিযোগিতায় দলের সাফল্য কামনা করছে।
এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নারী ফুটবলে দেশের অগ্রগতির একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। চীনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের জন্য একটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।
