টিম ডেভিডের ছক্কা তাণ্ডবে চেন্নাইকে হারালো বেঙ্গালুরু
আইপিএলে বরাবরই ছক্কা হাঁকানোর জন্য পরিচিত টিম ডেভিড। তার ক্যারিয়ারে ৫২ ম্যাচে ৬৯টি ছক্কা এবং ৫৮টি চার মারার রেকর্ড রয়েছে। চলতি মৌসুমেও তিনি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন, মাত্র ৩৫ বল খেলে ইতোমধ্যে ৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। রবিবার বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে তিনি আরও একবার তার বিধ্বংসী ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।
১৭ বলের অবিশ্বাস্য ইনিংস
রবিবারের ম্যাচে টিম ডেভিড মাত্র ১৭ বলের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি ৮টি ছক্কা হাঁকান। এই ইনিংসটি চেন্নাই সুপার কিংসের বোলারদের পাশাপাশি স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদেরও সহজে ভুলতে পারবেন না। ডেভিড যখন ক্রিজে নামেন, তখন বেঙ্গালুরু রান তুলছিল ওভারপ্রতি ১০.৭০ হারে। অপর প্রান্তে রজত পতিদার দারুণ ছন্দে ছিলেন, যা ডেভিডকে সময় নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ দেয়।
প্রথম চার বলে রান না পেলেও ধীরে ধীরে গিয়ার বদলান ডেভিড। ১৬.২ ওভারে দলের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৭৪, তখন ডেভিডের সংগ্রহ ৬ বলে ৩ রান। এরপরই শুরু হয় তার তাণ্ডব। ১৯ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৩৭, যেখানে ডেভিডের স্কোর ছিল ২৩ বলে ৬৫ রান। এই ১৭ বলেই তিনি ৮টি ছক্কা ও ২টি চার মারেন, ফলে সম্ভাব্য ২২০ রানের ইনিংস গিয়ে দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৫০ রান।
ডেথ ওভারে রেকর্ড রান
টিম ডেভিড শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২৫ বলে ৭০ রানে, যার মধ্যে ৬৮ রানই এসেছে ডেথ ওভারে। এটি আইপিএল ইতিহাসে এক ইনিংসে ডেথ ওভারে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘সব দিন এমন যায় না। পতিদার অসাধারণ খেলছিল, আমি তার কাছ থেকে স্ট্রাইক নিচ্ছিলাম। দলকে বড় স্কোরে নিয়ে যেতে পেরে দারুণ লাগছে।’
এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পেছনে প্রস্তুতির ভূমিকা বড় বলে জানান ডেভিড। তিনি বিশেষ করে দিনেশ কার্তিকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা অনুশীলনে অনেক কাজ করি। নিজের মৌলিক জায়গা ঠিক রেখে উন্নতির চেষ্টা করি। আইপিএলে কয়েক বছর খেলার অভিজ্ঞতায় এখন নিজের ওপর চাপও কম দিই।’
ম্যাচের ফলাফল ও প্রতিক্রিয়া
ডেভিডের এই ঝড়ো ইনিংসের ফলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বিশাল সংগ্রহ করে, যা চেন্নাই সুপার কিংস সামলাতে পারেনি। চেন্নাই ব্যাট হাতে ১৯.৪ ওভারে ২০৭ রানে থামে, ফলে তারা ৪৩ রানে হার মেনে নেয়। ম্যাচ শেষে চেন্নাইয়ের কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং বলেন, ‘শেষ পাঁচ ওভারে ডেভিডই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে। ১৫ ওভার পর্যন্ত আমরা এগিয়ে ছিলাম, এরপর তারা রকেটের মতো ছুটেছে। সেখানেই ম্যাচটা হারি।’
মজার বিষয় হলো, ভাগ্য কিছুটা সহায় না হলে গল্প ভিন্নও হতে পারতো। ১৮তম ওভারে আংশুল কাম্বোজের ইয়র্কারে ডেভিড বোল্ড হয়েছিলেন, কিন্তু নো-বল হওয়ায় বেঁচে যান। পরের ফ্রি-হিটে তিনি ছক্কা মারেন, আর এরপর জেমি ওভারটনের ওভার থেকে ৩০ রান নেন (৬, ২, ৪, ৬, ৬, ৬)। ওই ওভারেই মাত্র ২১ বলে তিনি ফিফটি পূরণ করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে বেঙ্গালুরু তাদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে, আর টিম ডেভিডের এই পারফরম্যান্স আইপিএল ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে রেকর্ড হয়ে থাকবে।



