নাহিদ রানার গতির ঝড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ উড়ে গেছে
মিরপুরে আজ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে নাহিদ রানার গতির ঝড়ে রীতিমতো উড়ে গেছে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। বাংলাদেশ দল ২০৯ বল বাকি রেখেই ৮ উইকেটে জয়লাভ করে দাপুটে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। নাহিদ রানা ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন, যা ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
আমিরের বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের ‘আউট অব সিলেবাস’ কৌশল
ম্যাচ শেষে সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানের এই ভরাডুবি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। আমিরের মতে, বাংলাদেশ খুব স্মার্টলি খেলেছে এবং পাকিস্তান দলকে চমকে দিতে ঘাসে ঢাকা বাউন্সি উইকেট প্রস্তুত করেছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ খুব স্মার্টলি খেলেছে। আমরা টার্নিং উইকেটের কথা ভাবছিলাম; কিন্তু ওরা বানিয়ে দিল গতির উইকেট। ঠিক যেন ‘‘আউট অব সিলেবাস’’ প্রশ্ন চলে এসেছে। ১৪০ প্লাস গতির বোলার দেখলেই আমাদের ব্যাটসম্যানরা লাফালাফি শুরু করে দেয়।’
পাকিস্তানের ব্যাটিং–ধসের পেছনে অনুশীলনের ত্রুটি
আমির পাকিস্তানের ব্যাটিং–ধসের পেছনে অনুশীলনের ত্রুটি চিহ্নিত করেছেন। নেটে শুধু বল ছুড়ে প্র্যাকটিস করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পাওয়ার হিটিং বা ডিফেন্স মানে এই নয় যে কেউ ওপর থেকে বল ছুড়ে দিচ্ছে আর আপনি খেলছেন। আসল পেসের বিপক্ষে খেলার সামর্থ্য থাকতে হবে। মাজ সাদাকাত বা শামিল হোসেনদের মতো তরুণদের টেকনিকে অনেক ভুল আছে। তারা শুধু মিড-উইকেটে খেলতে চায়, অফ স্টাম্পের বল বোঝে না।’
দলের ভারসাম্যহীনতা ও নির্বাচকদের সমালোচনা
আমির পাকিস্তানের এই দলটাকে একেবারেই ভারসাম্যহীন মনে করেন এবং এ জন্য পিসিবির নির্বাচকদেরও সমালোচনা করেছেন। কামরান গোলাম বা ইরফান খান নিয়াজির মতো পারফমারদের সুযোগ না দিয়ে অপরিপক্ব খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখন বাংলাদেশের কাছেও হারতে শুরু করেছি। আমার ভয় লাগছে, শেষ পর্যন্ত আমরা অ্যাসোসিয়েট দল না হয়ে যাই। ৫-৬ জন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়ে দল হয় না। দলে সিনিয়র-জুনিয়রদের ভারসাম্য থাকতে হবে।’
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা ও ভবিষ্যত সতর্কতা
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে আমির বলেছেন, ‘তারা আমাদের এমনভাবে মেরেছে যেন মনে হচ্ছিল অনেক মজা পাচ্ছে। যে উইকেটে আমরা ১১৪ রান করলাম, সেই উইকেটে তারা ১০-১২ ওভারে রান তাড়া করে ফেলেছে।’ তিনি তাঁর উত্তরসূরিদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমি আপনাদের বলে দিই, বাংলাদেশ আপনাদের কোনো স্পিন ট্র্যাক দেবে না। তারা এমন উইকেটই দেবে। তাদের তিনজন ফাস্ট বোলারই শক্তিশালী, যারা ১৩৫-১৪০ গতিতে বল করে, বিশেষ করে নাহিদ রানা। তারা সিরিজ জেতার জন্য এই সুযোগটাই নেবে।’
এই ম্যাচে তানজিদ হাসান ৪২ বলে ৬৭ রান করে বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশের এমন দাপুটে পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং পাকিস্তান দলকে ভবিষ্যতের জন্য পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে।
