নাহিদ রানার অগ্নিঝড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস, বাংলাদেশের জয়ের পথ সুগম
বাংলাদেশের উদীয়মান ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের ঝলকানি প্রদর্শন করেছেন। তার অপ্রতিরোধ্য পেস বোলিংয়ে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল মাত্র ১১৪ রানে অল-আউট হয়ে গেছে। বুধবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওডিআইয়ে বাংলাদেশ দল টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
শুরুতেই বাংলাদেশের বোলিং আধিপত্য
অনুভবযোগ্য সতর্কতা নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। প্রথম ছয় ওভারে নতুন বলের জুটি তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের বিপক্ষে তারা ২৪টি ডট বল মোকাবেলা করেন। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে বোলাররা প্রাথমিক সাফল্য পায়।
নাহিদ রানার প্রবেশই পাল্টে দেয় খেলার গতি। দশম ওভারে আক্রমণে নামার পর প্রথম ওভারের শেষ বলেই তিনি ফারহানকে ২৭ রানে আউট করেন, আফিফ হোসেন পয়েন্টে ক্যাচ নেন। পরের ওভারে ওডিআই অভিষেক হওয়া শামিল হোসেনকে মাত্র ৪ রানে পাঠান, ব্যাটসম্যান শর্ট ডেলিভারি মিসটাইম করে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন।
পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধ্বংসযজ্ঞ
রানা তার আক্রমণাত্মক স্পেল অব্যাহত রাখেন একের পর এক শর্ট-পিচড ডেলিভারি দিয়ে। তিনি সাদাকাতকে ১৮ রানে আউট করার পর অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ১০ রানে ক্যাচ বিহাইন্ডে পরিণত করেন, লিটন দাস again ক্যাচ নেন। তার স্মরণীয় পাঁচ উইকেট শিকার সম্পন্ন হয় সালমান আগাকে ৫ রানে আউট করার মাধ্যমে, তানজিদ হাসান শর্ট স্কয়ার লেগে ক্যাচ ধরেন।
ঘণ্টায় ১৪৮.৩ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি রেকর্ড করে রানার পেস ও বাউন্স পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং প্রমাণিত হয়। ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো চারজন ওডিআই অভিষেক হওয়া খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামা পাকিস্তান দল বাংলাদেশের শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং আক্রমণে দ্রুত গুটিয়ে যায়।
সিরিজে বাংলাদেশের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ
বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টা পাকিস্তানকে একটি মাত্রাবিহীন টোটালে সীমাবদ্ধ রাখে, যা স্বাগতিক দলকে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে একটি আরামদায়ক টার্গেট দেয়। নাহিদ রানার এই অসাধারণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের পেস বোলিং আর্সেনালে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য আশাবাদ তৈরি করেছে।
মিরপুরের পিচে বাংলাদেশের বোলারদের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল, যেখানে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা কখনই প্রয়োজনীয় মোমেন্টাম তৈরি করতে পারেনি। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে এবং ভবিষ্যত ম্যাচগুলোর জন্য মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা অর্জন করেছে।
