রিংকু সিংয়ের বাবা খানচাঁদ সিং মারা গেছেন, ক্যানসারে ভুগে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন
ভারতীয় ক্রিকেটার রিংকু সিংয়ের বাবা খানচাঁদ সিং ক্যানসারে ভুগে মারা গেছেন। তিনি গ্রেটার নয়ডার যথার্থ হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকার পর আজ ভোরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। খানচাঁদ সিং দীর্ঘদিন লিভার ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং গত কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটে।
বাবার ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প
খানচাঁদ সিং মাসে মাত্র ১২ হাজার রুপি বেতনে এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারির কাজ করতেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে গ্যাস কোম্পানির দেওয়া দুই কক্ষের একটি কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে তাঁর জীবনে ত্যাগের শেষ ছিল না। তিনি সাইকেলে ধারণক্ষমতার বেশি এলপিজি সিলিন্ডার চাপিয়ে পরিবারকে ভালো রাখতে এবং রিংকুর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পথ সুগম করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন।
রিংকু সিং একবার স্কুল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন এবং পুরস্কার হিসেবে মোটরবাইক পেয়েছিলেন। সেই ম্যাচ দেখতে গিয়ে খানচাঁদ সিং বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর ছেলে ভালো কিছু করছে। এরপর থেকে তিনি আর কখনো রিংকুকে ক্রিকেট খেলার জন্য মারেননি। বরং ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে আরও উৎসাহিত করেছিলেন।
শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা
রিংকু ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পুরোনো বাড়ি ছেড়ে কাছাকাছি একটি তিনতলা বিলাসবহুল বাড়িতে উঠেছেন। কিন্তু খানচাঁদ সিং সেই পুরোনো বাড়িতেই থেকে গেছেন। রিংকু বাবাকে তাঁর বাসায় উঠতে অনেক অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি। খানচাঁদের যুক্তি ছিল, ‘আমি যদি এই চাকরি ছেড়ে দিই, তাহলে কী করব? আমি তো অযোগ্য হয়ে পড়ব। এখন আমাদের যথেষ্ট টাকাপয়সা ও সব ধরনের আরাম-আয়েশ আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, আমরা আমাদের শিকড় ভুলি কীভাবে?’
বাবার মৃত্যু ও রিংকুর প্রতিক্রিয়া
খানচাঁদ সিংয়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর রিংকু সিং পরিবারের সঙ্গে শোক ভাগ করে নিতে আলিগড়ে ফিরেছেন। আলিগড়েই খানচাঁদ সিংয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে এবং রিংকু তাতে উপস্থিত থাকবেন। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দল ছেড়ে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার পর তিনি বাসায় গিয়েছিলেন। গতকাল চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ে-ভারত ম্যাচের আগে দলে ফিরলেও একাদশে ছিলেন না, বদলি ফিল্ডার হিসেবে ফিল্ডিং করেছেন।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে সুপার এইটে আগামী রোববার কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। রিংকু এ ম্যাচে খেলবেন কি না, কিংবা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেই তাঁকে আর দেখা যাবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। বিসিসিআই কিংবা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অফিশিয়ালি এখনো কিছু জানানো হয়নি।
অন্যান্য প্রতিক্রিয়া
ভারতের সাবেক অফ স্পিনার হরভজন সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা পোস্টে শোক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রিংকু সিংয়ের বাবা খানচাঁদ সিংয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। রিংকু ও তার পরিবারের জন্য এটা কঠিন সময়, যদিও সে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের দায়-দায়িত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমার আন্তরিক প্রার্থনা রইল।’
গত বছর রিংকু সিং বাবাকে দামি একটি স্পোর্টস বাইক (কাওয়াসাকি নিনজা ৪০০) উপহার দিয়েছিলেন। খানচাঁদ সিং তখন আবেগে ভেসে বলেছিলেন, ‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সে আত্মসম্মান ফিরিয়ে এনেছে। আগে, গ্যাস এজেন্সিতে আমার বস আমাকে অপমান করতেন, কুৎসিত ভাষা ব্যবহার করতেন এবং আমাকে অন্য শ্রমিকের মতোই দেখতেন। এখন তিনি আমার সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কথা বলেন এবং ‘সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন।’
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৫ ইনিংসে ব্যাট করে রিংকু সিং ২৪ রান করেছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর জায়গায় খেলেন সঞ্জু স্যামসন। রিংকুর বাবার মৃত্যু ক্রিকেট বিশ্বে একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা তাঁর সংগ্রামী জীবনের ইতি টেনেছে।
