নেইমারের জোড়া গোলে সান্তোসের জয়, ভিনিসিয়ুসের প্রতি সমর্থনে বিশেষ উদ্‌যাপন
নেইমারের গোলে সান্তোসের জয়, ভিনিসিয়ুসের প্রতি সমর্থন

নেইমারের জোড়া গোলে সান্তোসের প্রথম জয়, ভিনিসিয়ুসের প্রতি সমর্থনে বিশেষ উদ্‌যাপন

অবশেষে ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সান্তোসের সমর্থকরা। ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ ব্রাসিলেইরো সিরি আ–তে গতকাল রাতে ভাস্কো দা গামাকে ২–১ গোলে হারিয়েছে তারা। এই জয়ের নায়ক ছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার, যিনি দলের হয়ে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেন। চার ম্যাচ খেলে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৩তম অবস্থানে থাকা সান্তোসের জন্য এটি লিগে প্রথম জয়, যা দলের মর্যাল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ম্যাচের বর্ণনা ও নেইমারের অসাধারণ পারফরম্যান্স

ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৫ মিনিটে সান্তোসের হয়ে প্রথম গোল করেন নেইমার। দারুণ ফিনিশিংয়ে করা এই গোলের পর তিনি গ্যালারির উদ্দেশে চুপ থাকার ইশারা করেন এবং পরবর্তীতে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো উদ্‌যাপন করেন। উল্লেখ্য, চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো প্লে-অফে বেনফিকার বিপক্ষে দুই লেগেই গোল করার পর এভাবে উদ্যাপন করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে ভাস্কো দা গামা সমতা ফিরিয়ে আনলেও, ৬১ মিনিটে নেইমার নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের নিয়তি নির্ধারণ করেন।

ইনজুরি থেকে ফিরে নেইমারের সংগ্রাম ও সমালোচনার জবাব

দুই মাসের বেশি সময় পর অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসন শেষ করে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামেন নেইমার, যা ছিল ২০২৬ সালে তাঁর প্রথম ম্যাচ। ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে গোল না পেলেও একটি অ্যাসিস্টে দলের ৬–০ গোলের জয়ে অবদান রাখেন তিনি। তবে পরের ম্যাচেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখেন নেইমার, যখন নভোরিজোন্তিনোর কাছে ২–১ গোলে হেরে পাউলিস্তা চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায় নেয় সান্তোস। এর মধ্যে নেইমারকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ও সমালোচনা শোনা যায়, এমনকি বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে তাঁকে বিবেচনা না করার বিষয়টিও সামনে আসে। কিন্তু সমস্ত সমালোচনা ও অবহেলার জবাব নেইমার দিলেন গোল করে, যা তাঁর দৃঢ় মনোবল ও প্রতিশোধের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও ভিনিসিয়ুসের প্রতি সমর্থন

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের ক্রীড়া চ্যানেল স্পোরটিভিকে নেইমার বলেন, ‘গত সপ্তাহে তারা বলছিল, আমি নাকি বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়। আজ আমি দুই গোল করেছি এবং এটাই দরকার। এটাই ফুটবল। একদিন আপনি খারাপ, বা অবসর নেওয়ার মতো খেলোয়াড়। পরের দিনই মানুষ আবার বলবে, আপনাকে বিশ্বকাপে যেতেই হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি নিজেকে প্রস্তুত করতে পরিশ্রম করছি, সেরা ছন্দে ফিরতে চাই। এ বছর এটি ছিল আমার তৃতীয় ম্যাচ, আর পুরো ৯০ মিনিট খেলেছি মাত্র দ্বিতীয়বার। শেষ দিকে একটু পেশিতে টান ধরেছিল, তবে এটাও প্রক্রিয়ারই অংশ।’

ভিনিসিয়ুসের মতো উদ্‌যাপন নিয়ে নেইমার স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার উদ্‌যাপনটা ছিল ভিনির জন্য। পর্তুগালে যখন সে বর্ণবাদের শিকার হয়েছিল, তখন আমি তাকে বলেছিলাম, “আবার গোল করলে একইভাবে উদ্‌যাপন করবে। কারণ আমিও ঠিক একইভাবে উদ্‌যাপন করব।”’ এই মন্তব্যে ফুটবল জগতে একতা ও বর্ণবাদ বিরোধী অবস্থানের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।

সামগ্রিকভাবে, নেইমারের এই পারফরম্যান্স শুধু সান্তোসের জয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং তাঁর ব্যক্তিগত ফর্ম ফিরে আসা এবং দলের ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখিয়েছে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে তাঁর প্রত্যাবর্তন এবং ভিনিসিয়ুসের প্রতি সমর্থন ক্রীড়া সম্প্রদায়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।