উমরান মালিকের বাজে বোলিং: এক ওভারে ৩৬ রান, ম্যাচে মোট ৫৯ রান খরচ
ভারতীয় তারকা পেসার উমরান মালিক ডিওয়াই পাতিল টি-টোয়েন্টি কাপে এক ওভারে ৩৬ রান দিয়েছেন, যা তার বোলিং ক্যারিয়ারের একটি নেতিবাচক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তিনি মাত্র দুই ওভারে ৫৯ রান খরচ করেছেন, কোনো উইকেট না নিয়ে দলকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দেন।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
ম্যাচটিতে উমরান মালিক টাটা স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে খেলেন, যার প্রতিপক্ষ ছিল মুম্বাই কাস্টমস। প্রথমে ব্যাট করে টাটা স্পোর্টস ক্লাব ১৯৩ রান সংগ্রহ করে, যা একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোর হিসেবে বিবেচিত হয়।
বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে পান উমরান, যেখানে তিনি ২৩ রান দেন। এই ওভারে ঋগ্বেদ মোরে তার বলে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মেরে দ্রুত রান সংগ্রহ করেন। এত বেশি রান দেওয়ায় অধিনায়ক শার্দূল ঠাকুর তাকে পরের ওভারে বোলিং না দিয়ে ইনিংসের ১৩তম ওভারে ফেরান।
দ্বিতীয় ওভারের বিপর্যয়
দ্বিতীয় ওভারে উমরান আরও খারাপ পারফর্ম করেন, মাত্র ছয় বলে ৩৬ রান দেন। এই ওভারের ঘটনাপ্রবাহ নিম্নরূপ:
- প্রথম বলে এক রান হয়।
- দ্বিতীয় বলে মোরে চার মারেন, কিন্তু ডেলিভারিটি ছিল ‘নো’ বল।
- তৃতীয় বলে মোরে ছক্কা মারেন।
- ফ্রি হিটের ডেলিভারিতে মোরেকে কোনো রান নিতে দেওয়া হয়নি।
- পরের দুই বলে আবারও ছক্কা ও চার মারা হয়।
- এরপর একটি ওয়াইড ও একটি ‘নো’ বল ঘটে।
- ফ্রি হিটে শচীন যাদব চার মারেন, যা আম্পায়ার ‘নো’ বল ঘোষণা করেন।
- আরেকটি ফ্রি হিটে যাদব ছক্কা মেরে ওভার শেষ করেন।
ম্যাচের ফলাফল
ওভার শেষে উমরানের বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ২ ওভারে ৫৯ রান, কোনো উইকেট ছাড়াই। মুম্বাই কাস্টমসের জয়ের জন্য তখন ৪২ বলে মাত্র ২৯ রান প্রয়োজন ছিল, যা তারা পরের ১৮ বলেই সংগ্রহ করে নেয়। এই ম্যাচে উমরানের দুর্বল পারফরম্যান্স দলের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
উমরান মালিকের প্রোফাইল
উমরান মালিক একজন ভারতীয় পেসার, যিনি জম্মু ও কাশ্মীর থেকে উঠে এসেছেন। তিনি ভারতের হয়ে ১০টি ওয়ানডে এবং ৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন, আইপিএলে গতির ঝড় তোলার জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক এই বাজে বোলিং তার ক্যারিয়ারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের এই পারফরম্যান্স প্রশ্ন তুলেছে তার ফর্ম ও মানসিক স্থিরতা নিয়ে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা তাকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হতে প্রেরণা দিতে পারে, তবে এখনই তাকে কঠোর পরিশ্রম ও মনোযোগের প্রয়োজন।
